Wednesday, January 11, 2017

আল্লাহর অস্তিত্বের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ

আল্লাহর অস্তিত্বের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণঃ প্রতিটি জিনিসের পেছনে একজন সৃষ্টিকর্তা রয়েছেন - এ সিদ্ধান্ত পৌঁছানোর কারণ হচ্ছে আমাদের অনুধাবনযোগ্য প্রতিটি বিষয়, যেমন: মানুষ, জীবন ও মহাবিশ্ব ইত্যাদি সীমাবদ্ধ, দুর্বল, অসম্পূর্ণ এবং তাদের অস্তিত্বের জন্য তারা অপরের উপর নির্ভরশীল। মানুষ সীমাবদ্ধ, কারণ সকল ক্ষেত্রেই সে একটি সীমার মধ্যে বেড়ে ওঠে এবং কখনোই এ সীমাবদ্ধতার বাইরে যেতে পারে না। জীবন সীমাবদ্ধ, কারণ আমরা অনুভব করতে পারি যে এটি স্বতন্ত্র প্রাণীসত্তার মধ্যেই প্রকাশিত হয় এবং তার মধ্যেই বিলুপ্ত হয়। কাজেই এটিও সীমাবদ্ধ। মহাবিশ্বও সীমাবদ্ধ, কারণ এটি কতগুলো মহাজাগতিক বস্তুর সমষ্টিমাত্র। প্রতিটি মহাজাগতিক বস্তু সীমাবদ্ধ এবং দৃশ্যতই অনেকগুলো সীমাবদ্ধ বস্তুর সমষ্টিও সীমাবদ্ধ। কাজেই নিশ্চিতভাবেই মানুষ, জীবন ও মহাবিশ্ব সীমাবদ্ধ। যখন আমরা সীমাবদ্ধ বস্তুগুলো নিয়ে চিন্তা করি, তখন আমরা দেখতে পাই, এগুলো কোনোটিই আজালী (চিরন্তন- আদি, অন্তহীন ও অসীম) নয়। নইলে এগুলোর কোনোটিই সীমাবদ্ধ হত না। আর একারণেই অবশ্যই একজন সৃষ্টিকর্তা রয়েছেন যিনি মানুষ, জীবন ও মহাবিশ্বসহ সকল কিছুকে সীমা প্রদান করেছেন, এগুলোকে সৃষ্টি করেছেন। এই সৃষ্টিকর্তাকে হয় কেউ সৃষ্টি করেছে, অথবা তিনি নিজেই নিজেকে সৃষ্টি করেছেন, অথবা তিনি চিরন্তন, আদি অন্তহীন (আজালী) এবং যার অস্তিত্ব অপরিহার্য। তাকে কেউ সৃষ্টি করেছে এ ধারণাটি চরম মিথ্যা, কারণ তাহলে তিনি সীমাবদ্ধ হয়ে যান। আর কেউ যদি বলেন, তিনি নিজেই নিজেকে সৃষ্টি করেছেন, তবে এ যুক্তিটিও সম্পূর্ণ অসার, কারণ স্বাভাবিক যুক্তির বিচারে তখন তাকে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এধরনের যুক্তির অন্তর্নিহিত অর্থ হচ্ছে, তিনি সৃষ্টি হবার সময় নিজেকেই সৃষ্টি করছিলেন! এরূপ ধারণা অসম্ভব ও অলীক কল্পনামাত্র। কাজেই সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই আজালী (চিরন্তন- আদি, অন্তহীন ও অসীম)। তিনিই মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা। ন্যূনতম চিন্তা-ভাবনার অধিকারী যে কেউ তার পারিপার্শ্বিকতা থেকে অনুধাবন করতে পারেন যে, সবকিছুর পিছনে একজন সৃষ্টিকর্তা রয়েছেন। কারণ সবকিছু থেকে যে সত্যটি বের হয়ে আসে তা হচ্ছে এগুলোর প্রত্যেকটিই অসম্পূর্ণ, দুর্বল ও নির্ভরশীল। কাজেই তারা অবশ্যই সৃষ্ট। বস্তুত মানুষ, জীবন বা মহাবিশ্বের যে কোনো বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দিলেই কোনো ব্যক্তি সহজে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেন যে, এগুলোর পিছনে একজন সৃষ্টিকর্তা ও একজন সংগঠক রয়েছেন। মহাবিশ্বের যে কোনো বস্তুর প্রতি লক্ষ্য করলে, জীবনের যে কোনো দিকের প্রতি গভীর মনোযোগ দিলে, কিংবা মানুষের যে কোনো বিষয় অনুধাবন করলে প্রতিটি বিষয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার অস্তিত্ব সম্পর্কে সুনিশ্চিত নিদর্শন বহন করে। মহাগ্রন্থ কুরআনে এ বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে এবং মানুষকে তার পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছতে বলা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় মানুষ লক্ষ্য করে কীভাবে একটি বস্তু অপর বস্তুর উপর নির্ভরশীল এবং সুনিশ্চিত সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, নিশ্চয়ই আল্লাহর অস্তিত্ব সত্য - যিনি সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা। কুরআনে বহু আয়াতে এ ধরনের অসংখ্য উদাহরণ লক্ষ্য করা যায়। সুরা আলি ইমরানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা বলেছেন, "নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিবা-রাত্রির পরিবর্তনে নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য।" (সুরা আলি ইমরান: ১৯০) এবং তিনি সুরা আর-রুম-এ বলেছেন, "এবং তার নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি, এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয়ই এ সমস্ত কিছুর মধ্যে জ্ঞানী ব্যক্তিদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।" (সুরা আর-রুম, আয়াত ২২) তিনি সুরা আল-গাশিয়াহতে বলেছেন, "তবে কি তারা উটের প্রতি লক্ষ করে না যে, কীভাবে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে? এবং আকাশের প্রতি যে, কীভাবে তাকে ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে এবং পর্বতমালার প্রতি যে কীভাবে তাকে স্থাপন করা হয়েছে? এবং ভূ-পৃষ্ঠের প্রতি, কীভাবে তাকে বিস্তৃত করা হয়েছে? (সুরা আল-গাশিয়াহ, আয়াত ১৭-২০) এবং সুরা আত-ত্বরিকে বলেছেন, "সুতরাং মানুষ লক্ষ্য করুক তাকে কি হতে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে যা নির্গত হয় মেরুদণ্ড ও পাঁজরের মধ্য থেকে।" (সুরা আত-ত্বরিক, আয়াত ৫-৭) এবং সুরা আল-বাকারাহতে বলেছেন, "নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের পরিবর্তনে, যা মানুষের কল্যাণ করে তা-সহ সমুদ্রে বিচরণশীল নৌযানসমূহে, আল্লাহ আকাশ থেকে যে বারিবর্ষণে ধরিত্রীকে পুনর্জীবিত করেন তাতে এবং তার মধ্যে যাবতীয় জীবজন্তুর বিস্তারণে, বায়ুর দিক পরিবর্তনে, আকশে ও পৃথিবীর মধ্যে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালাতে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।" (সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১৬৪) এরূপ আরও অসংখ্য আয়াত রয়েছে যেখানে মানুষকে তার পারিপার্শ্বিকতার বিভিন্ন বস্তু ও তাদের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার আহবান জানানো হয়েছে এবং স্রষ্টার অস্তিত্ব সম্পর্কে বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্তে উপনীত হবার কথা বলা হয়েছে। এভাবেই সুনির্দিষ্ট বিচার-বিবেচনা ও স্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে আল্লাহর উপর সুদৃঢ় বিশ্বাস স্থাপিত হয়। clt

Tuesday, January 10, 2017

সবকিছুই যদি আল্লাহ্‌ তৈরী করে থাকেন তো আল্লাহ্‌কে কে তৈরী করলো? অগাষ্ট 6, 2013 / আদনান ফায়সাল [Note: এই লেখায় আল্লাহ্‌ / ঈশ্বর / সৃষ্টিকর্তা / God সমার্থকরূপে ব্যবহার করা হয়েছে ] প্রশ্ন ১। বিভিন্ন সময় নাস্তিকদের বলতে শুনেছি যে আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করা অন্ধবিশ্বাস মাত্র। ঈশ্বর বিশ্বাস কি আসলেই একটা আবেগীয় ব্যাপার, নাকি ঈশ্বরের অস্তিত্বের যৌক্তিক প্রমান আছে? উত্তর: নাস্তিকেরা বলে থাকে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস একটি অন্ধবিশ্বাস। তারা বলে, যেহেতু আল্লাহকে দেখা যায়না, ধরা যায় না, শুনা যায় না, লজিক দিয়ে প্রমাণ করে যায় না – কাজেই আল্লাহ্‌ বলে কিছু নেই। কিন্তু, বাস্তব হলো সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস এবং সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করা মানুষের জন্মগত স্বভাব। আর যদিও নাস্তিকেরা নিজেদেরকে যুক্তিবাদী বলে দাবী করে, কিন্তু সত্য হলো সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব যুক্তি বা লজিক দিয়ে প্রাচীণ কাল থেকেই প্রমাণিত হয়ে এসেছে। বর্তমানে আমরা যে লজিক বা যুক্তিবিদ্যা পড়ি, তার আবিষ্কারক হলো প্রাচীণ গ্রীকের পন্ডিতগণ। গ্রীকের ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত লজিশিয়ান বা যুক্তিবিজ্ঞানী ছিলেন প্লেটো এবং তার ছাত্র এরিস্টোটল, যারা লজিককে formal discipline হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। আপনি জানেন কি এরা দুজনেই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব (তাদের ভাষায় ‘unmoved mover’) বিশ্বাস করতেন? এরা দু’জনেই যুক্তি দিয়েই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব প্রমাণ করে গেছেন। এর মাধ্যমে এটুকু বোঝা গেল, যুক্তিবাদী(?) নাস্তিকেরা যুক্তিবিদ্যার পিতা / পিতাতুল্যদেরকে নিজেরাই বিশ্বাস করে না। এবার আসুন দেখি প্লেটোর যুক্তি কি ছিল। প্লেটো যে যুক্তিটি ব্যবহার করেছিলেন সেটা হলো, Design Indicates Designer, অর্থাৎ – প্রতিটি নকশারই নকশাকারী আছে। মহাগ্রন্থ কোরআনে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এই একই যুক্তি দিয়ে বার বার অবিশ্বাসীদের নিকট স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করেছেন (যেমনঃ সূরা আন’আম ৬:৯৯, সূরা রুম ৩০:২০-২৭)। উদাহরন দিয়ে বুঝানো যাক। আপনি যদি সমুদ্র পারে একটা বালির ঘর দেখেন, আপনি কি চিন্তা করবেন – বাহ কি সুন্দর একটা ঢেউ এসেছিল যেটা একটা বালির ঘর তৈরি করে চলে গেছে? নাকি এটি চিন্তা করবেন, নিশ্চয়ই এখানে কোন মানুষ এসে এটা বানিয়েছিল? কাকে আপনার যুক্তিবাদী মনে হয়? এটা সম্পূর্ণই অযৌক্তিক হবে যদি কেউ বলে, যে ঐ বালির ঘর ভাগ্যক্রমে বা হাজার হাজার ঢেঊ এর মিশ্রনে হয়েছে। বরং সাধারণ বিচার-বুদ্ধি সম্পন্ন যেকোন মানুষই বলবে যে ঐ বালির ঘরটি নিশ্চয়ই কেউ না কেউ তৈরী করেছে। কারন, প্রতিটা সৃষ্টির পেছনেই স্রষ্টা থাকে। ঠিক একইভাবে, এই মহাবিশ্ব এবং এর ভিতরের সবকিছুর অবশ্যই একজন স্রষ্টা আছে। একটা কলম নিজে নিজে তৈরি হতে পারে না, ফেইসবুক নিজে নিজে তৈরী হতে পারে না, আইফেল টাওয়ার থেকে মোনালিসা কোন কিছুই নিজে নিজে তৈরী হতে পারে না, তাহলে এত নিয়মতান্ত্রিক, নিঁখুত মহাবিশ্ব ও মানবজাতি কিভাবে নিজে নিজে তৈরী হতে পারে? একটা অণুর ভিতর তাকান, আপনি ডিজাইন দেখতে পাবেন, মহাকাশের দিকে তাকান আপনি ডিজাইন দেখতে পাবেন। সূর্য যদি পৃথিবীর আরো কাছে থাকতো তাহলে পৃথিবী অনেক বেশী গরম হয়ে যেতো, পৃথিবী থেকে সূর্য আরো দূরে থাকলে পৃথিবী ঠান্ডা হয়ে বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে যেতো, সূর্য পৃথিবী থেকে ঠিক ততটুকুই দূরে আছে যতটুকু দূরে থাকলে পৃথিবীটা প্রাণের টিকে থাকার উপযুক্ত হবে, সৃষ্টিজগতের এই নিঁখুত স্থাপত্য এটা প্রমান করে যে এই সৃষ্টি জগত র‍্যান্ডমলি সৃষ্টি হতে পারে না, এর পেছনে অবশ্যই একজন প্রবল পরাক্রমশালী, অসীম ক্ষমতাধর, প্রজ্ঞাময় স্রষ্টা আছেন। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কোরআন মাজিদে প্রশ্ন করেন: তারা কি স্রষ্টাহীন সৃষ্টি? না তারা নিজেরা নিজেদের সৃষ্টি করেছে? না তারা আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে? বরং তারা নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে না । – সূরা তুর (৫২:৩৫-৩৬) প্রত্যেকটি মানুষই এক আল্লাহ্‌র অস্তিত্বের স্বাভাবিক অনুভূতি নিয়ে জন্মায়, জন্ম থেকেই মানুষ জানে যে আল্লাহ্‌ এক এবং আল্লাহ্‌ চান আমি তার ইবাদত করি – ইসলামের ভাষায় এই অনুভূতিকে ‘ফিতরাহ’ বলে। কি, ‘ফিতরাহ’ এর ব্যাপারটা বিশ্বাস হচ্ছে না? বৈজ্ঞানিক প্রমান লাগবে? তাহলে শুনুন। University of Oxford এর Centre for Anthropology and Mind বিভাগের সিনিয়র রিসার্চার Dr. Justin Berrett দীর্ঘ ১০ বছর শিশুদের উপর বৈজ্ঞানিক গবেষনা করে বলেছেন: “Young people have a predisposition to believe in a supreme being because they assume that everything in the world was created with a purpose.” “If we threw a handful (of babies) on an island and they raised themselves I think they would believe in God.” প্রশ্ন ২। আচ্ছা বুঝলাম এই সৃষ্টিজগত একজন স্রষ্টা তৈরী করেছেন, কিন্তু তাহলে সেই স্রষ্টার স্রষ্টা কে? উত্তর: স্রষ্টা কে কেউ সৃষ্টি করতে পারে কিনা – আসুন ব্যাপারটা একটু তলিয়ে দেখি। কখনো ডমিনোর খেলা দেখেছেন? ডমিনোগুলোকে একটার পর একটা সাজিয়ে বাইরে থেকে ধাক্কা দেয়া হয় আর তার effect শুরু হয়, একটার পর একটা ডমিনো পড়তে থাকে। সৃষ্টির ব্যাপারটাও একইরকম। একটা সৃষ্টি আরেকটা সৃষ্টির কারণ ঘটায়। এখন, আমি যদি আপনাকে বলি, কোন বাতাস ছিল না, কেউ ধাক্কা দেই নাই, অনেকগুলো ডমিনো সাজানো ছিল এবং কোন বাহ্যিক বল ছাড়া এমনি এমনি ডমিনো একটার উপর আরেকটা পড়তে শুরু করল, আপনি কি বিশ্বাস করবেন? করবেন না (নিউটনের ১ম সূত্র) । এবং যে এই বাহ্যিক বল প্রয়োগ করবে সে অবশ্যই ডমিনো হতে পারে না। কারণ সে ডমিনো হলে, অর্থাৎ সে process of creation এর অন্তর্ভুক্ত হলে তাকে push করার জন্য, অন্য কথায় তাকে সৃষ্টি করার জন্য অন্য কাউকে লাগবে। অর্থাৎ, এই বাহ্যিক বল প্রয়োগকারী স্রষ্টাকে সৃষ্টি থেকে ভিন্ন প্রকৃতির হতে হবে। সৃষ্টি যদি সসীম হয়, স্রষ্টা হবেন অসীম; সৃষ্টি যদি অন্য সৃষ্টির প্রয়োজন অনুভব করে, স্রষ্টা হবেন চাহিদার উর্দ্ধে; সৃষ্টি যদি ভুল প্রবণ হয়, স্রষ্টা হবেন ভুলের উর্দ্ধে; সৃষ্টি যদি ক্ষণস্থায়ী হয়, স্রষ্টা হবেন চিরস্থায়ী। আর এই স্রষ্টা যেহেতু অসীম ক্ষমতাশীল, অনাদি, অনন্ত, কাজেই এই রকম স্রষ্টা মাত্র একজনই থাকবেন। কারণ, একাধিক অসীম ক্ষমতাশীল, অনাদি, অনন্ত স্রষ্টার সহাবস্থান অসম্ভব। বলুন – তিনিই আল্লাহ্‌, এক ও অদ্বিতীয়। সবাই তার মুখাপেক্ষী, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। এবং কেউই তার সমকক্ষ নয়। – সূরা ইখলাস (১১২:১-৪) সুতরাং, মহাবিশ্বের অস্তিত্বই প্রমাণ করে যে স্রষ্টাকে কেউ সৃষ্টি করে নাই। কারণ, মহাবিশ্বকে যে স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন সেই স্রষ্টাকে সৃষ্টি করতে যদি স্রষ্টা লাগে, তাকে সৃষ্টি করতে যদি স্রষ্টা লাগে, তাকে সৃষ্টি করতে যদি স্রষ্টা লাগে – এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে এবং কোনদিনই মহাবিশ্ব সৃষ্টি হত না। এই ধাঁধার একমাত্র সমাধান হলঃ স্রষ্টাকে কেউ সৃষ্টি করেন নাই, এবং তিনি সবসময়ই ছিলেন। এই কথাই বলে মহাগ্রন্থ কোরআন: আল্লাহ্‌ – তিনি ছাড়া আর কোন উপাস্য নাই। তিনি চিরঞ্জীব, অনাদি। তাঁকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশ ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে সবই তাঁর। কে আছে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের (মানুষের) সামনে ও পেছনে যা-কিছু আছে তিনি তা জানেন। তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না। আকাশ ও পৃথিবীব্যাপী তাঁর আসন, আর তাদের রক্ষণাবেক্ষণে তিনি ক্লান্ত হন না। তিনি অত্যুচ্চ মহামহিম। – সূরা বাক্বারাহ্‌ (২:২৫৫ – আয়াতুল কুরসী) প্রশ্ন ৩। আমার কাছে মহাবিশ্ব নিজেই স্রষ্টা। এতে কোনও সমস্যা আছে? উত্তর: আপনি নিশ্চয়ই বিগ ব্যাং থিউরী তে বিশ্বাস করেন। বিগ ব্যাং থিউরী মতে এই মহাবিশ্বের একটা শুরু আছে। পৃথিবীর অন্যতম বড় পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং নিজেও তার ওয়েবসাইটে এই সম্পর্কে লিখেছেন: The conclusion of this lecture is that the universe has not existed forever. Rather, the universe, and time itself, had a beginning in the Big Bang, about 15 billion years ago. – The Beginning of Time, Stephen Hawking যার শুরু থাকে তার সৃষ্টি হওয়ারও একটা কাল থাকে, আর যে সৃষ্টি হয় – তার অবশ্যই একজন স্রষ্টা থাকে। কাজেই মহাবিশ্ব নিজে কখনই স্রষ্টা হতে পারে না। মহাবিশ্বকে সৃষ্টি করার জন্য একজন অনন্ত-অসীম, পরম ক্ষমতাশীল স্রষ্টা লাগবে – আর সেই পরম ক্ষমতাশীল স্রষ্টাই হলেন আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা। অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশ ও পৃথিবী ওতপ্রোতভাবে) মিশে ছিল? তারপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম এবং প্রাণবান সবকিছু পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। তবুও কি ওরা বিশ্বাস করবে না? – সূরা আম্বিয়া (২১:৩০

Monday, January 9, 2017

সত্য ধর্মের শর্ত ও নিয়মাবলী

সত্য ধর্মের শর্ত ও নিয়মাবলী প্রত্যেক আক্বীদার লোকেরা কিভাবে নিজেদের বিশ্বাসকে সঠিক মনে করেন? www.aroadtohappiness.com মিখাইল হিময ইংরেজ লেখক একত্ববাদ ইসলামের মৌলিক বাস্তবতা হল একত্ববাদ। আল্লাহ এক, মুহাম্মদ সঃ আল্লাহর তায়ালার রাসুল। এতে শিরকের কোন জায়গা নেই। তাই এতে নেই কোন পিতা, নেই কোন পুত্র। ঐশ্বী ও পার্থিব এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য বলতে কোন ভাগ নেই। এখানে এক জগত এক ধর্ম। সর্বদা প্রত্যেক আক্বীদায় বিশ্বাসীরা মনে করেন যে, সে যে বিশ্বাস করে সেটাই গ্রহণযোগ্য ও সত্য, অন্যেরটা মিথ্যা। এ ক্ষেত্রে নিজেদেরটা নির্ভূল প্রমাণ করতে প্রত্যেক আক্বীদার লোকেরা নানারকম যুক্তি দিয়ে থাকে। মানবরচিত ভ্রান্ত আক্বীদা বা ভ্রষ্ট রূপান্তরিত আক্বীদার লোকেরা নিজেদের আক্বীদাকে নির্ভূল প্রমাণ করতে বলে থাকেন, আমরা আমাদের বাপ দাদাদেরকে এ আক্বীদার উপর পেয়েছি, তাই আমরা তাদের অনুসরণ করি। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ এমনিভাবে আপনার পূর্বে আমি যখন কোন জনপদে কোন সতর্ককারী প্রেরণ করেছি, তখনই তাদের বিত্তশালীরা বলেছে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছি এক পথের পথিক এবং আমরা তাদেরই পদাংক অনুসরণ করে চলছি। সে বলত, তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে বিষয়ের উপর পেয়েছ, আমি যদি তদপেক্ষা উত্তম বিষয় নিয়ে তোমাদের কাছে এসে থাকি, তবুও কি তোমরা তাই বলবে? তারা বলত তোমরা যে বিষয়সহ প্রেরিত হয়েছ, তা আমরা মানব না। (যুখরুফঃ ২৩-২৪) আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ আর যখন তাদেরকে কেউ বলে যে, সে হুকুমেরই আনুগত্য কর যা আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেছেন, তখন তারা বলে কখনো না, আমরা তো সে বিষয়েরই অনুসরণ করব। যাতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে দেখেছি। যদি ও তাদের বাপ দাদারা কিছুই জানতো না, জানতো না সরল পথও। বস্তুতঃ এহেন কাফেরদের উদাহরণ এমন, যেন কেউ এমন কোন জীবকে আহবান করছে যা কোন কিছুই শোনে না, হাঁক-ডাক আর চিৎকার ছাড়া বধির মুক, এবং অন্ধ। সুতরাং তারা কিছুই বোঝে না। (বাকারাঃ ১৭০-১৭১) তারা তাদের এ অবস্থানকে দৃঢ় করতে জ্ঞানহীনভাবে কোন চিন্তাভাবনা ছাড়াই অন্ধ অনুসরণের উপর নির্ভর করে। অথবা মিথ্যা, ভ্রান্ত, পরস্পর বিরোধপূর্ণ যার কোন সনদ ও দলিল নাই এমন সব সংবাদ ও রেওয়াতের উপর নির্ভর করে। ফলে এসব ধর্ম, মতবাদ ও বিশ্বাসের কোন দলিল প্রমাণ গ্রহণযোগ্য নয়। সব ধর্মীয় আক্বীদাই কি সঠিক? সত্য যেহেতু একটিই, একাধিক হতে পারেনা, তাই সব আক্বীদার লোকেরাই সঠিক তা বলাও অসম্ভব। কেননা এতে সত্য পরস্পর বিরোধপূর্ণ হয়ে যাবে। আর ইহা সুস্থ বিবেক অস্বীকার করে। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ পক্ষান্তরে এটা যদি আল্লাহ ব্যতীত অপর কারও পক্ষ থেকে হত, তবে এতো অবশ্যই বহু বৈপরিত্য দেখতে পেত। (নিসাঃ ৮২) www.aroadtohappiness.com গ্যাষ্টন ব্যারেট অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক গবেষক আল্লাহ প্রদত্ত স্বভাব “ছোট শিশুদের কাছেও আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার আগাম প্রবণতা আছে। কারণ তারা মনে করে, এ জগতের সব কিছু কোন কারণে সৃজিত হয়েছে। বরং আমরা যদি কিছু শিশুকে একাকী কোন দীপে ফেলে আসি , তারা নিজে নিজে বেড়ে ওঠে তাহলেও তারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। “ তাহলে সত্য ধর্ম কোনটি? এর বৈশিষ্ট্য ও নিয়মাবলী কি যাতে আমরা হুকুম দিতে পারি এ আক্বীদার বিশ্বাসীরা সত্য ও সঠিক আর ইহা ছাড়া অন্যরা ভ্রান্ত ও বাতিল -যাদের মধ্যে উক্ত বৈশিষ্ট্য ও নিয়মাবলী পাওয়া যাবেনা-। সত্য ধর্মের বৈশিষ্ট্য ও নিয়মাবলী হলোঃ আল্লাহ প্রদত্ত মূল উৎসের ধর্ম ধর্মটির মূল উৎস হবে খোদা প্রদত্ত। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাকের তরফ থেকে আসবে। আল্লাহ তায়া’লা ফেরেশতাদের মাধ্যমে নবী রাসুলের দ্বারা বান্দাহদের কাছে তার বাণী অবতীর্ণ করবেন। কেননা সত্য ধর্ম হলো এ মহাবিশ্বের স্রষ্টা মহান আল্লাহ তায়া’লার প্রেরিত ধর্ম। তিনি তাদের কাছে যে ধর্ম প্রেরণ করেছেন কিয়ামতের দিবসে সে ব্যাপারে সৃষ্টিকূলের কাছ থেকে হিসেব নিবেন। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি, যেমন করে ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহের প্রতি এবং সে সমস্ত নবী-রসূলের প্রতি যাঁরা তাঁর পরে প্রেরিত হয়েছেন। আর ওহী পাঠিয়েছি,ইসমাঈল,ইব্রাহীম,ইসহাক, ইয়াকুব, ও তাঁর সন্তাবর্গের প্রতি এবং ঈসা, আইয়ুব,ইউনূস, হারুন ও সুলায়মানের প্রতি। আর আমি দাউদকে দান করেছি যবুর গ্রন্থ। এছাড়া এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের ইতিবৃত্ত আমি আপনাকে শুনিয়েছি ইতিপূর্বে এবং এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের বৃত্তান্ত আপনাকে শোনাইনি। আর আল্লাহ মূসার সাথে কথোপকথন করেছেন সরাসরি। সুসংবাদদাতা ও ভীতি-প্রদর্শনকারী রসূলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে রসূলগণের পরে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করার মত কোন অবকাশ মানুষের জন্য না থাকে। আল্লাহ প্রবল পরাক্রমশীল,প্রাজ্ঞ। (নিসাঃ ১৬৩-১৬৫) এর উপর ভিত্তি করে বলতে পারি, যে সব ধর্মকে আল্লাহর দিকে নিসবত বা সম্পর্কিত না করে কোন ব্যক্তির দিকে সম্পর্কিত করা হয় তা দ্ব্যর্থহীনভাবে বাতিল, এতে কোন সন্দেহ নেই। আর যেসব ধর্ম মানুষের দ্বারা উন্নতি লাভ করে, মানুষ এতে কোন কিছু সংযোগ করে, ইহাকে সজ্জিত করে সে ধর্মও দ্বিধাহীনভাবে বাতিল। কেননা যে ব্যক্তি ধর্মটি উন্নত ও পরিবর্তন করল সে মানুষের সার্বিক কল্যাণ সম্পর্কে জ্ঞাত সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর চেয়ে বেশী জ্ঞাত নন। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি করে জানবেন না? তিনি সূক্ষ্মজ্ঞানী, সম্যক জ্ঞাত। (মুলকঃ ১৪) তা নাহলে উন্নয়নকারী বা শরিয়ত প্রবর্তকই রব ও ইলাহ হতেন, যিনি সৃষ্টির ভাল মন্দ সম্পর্কে জানবেন। আল্লাহ তায়া’লা এমন শরীক হতে অনেক উর্ধ্বে। তিনি বলেনঃ তারা কি আল্লাহর দ্বীনের পরিবর্তে অন্য দ্বীন তালাশ করছে? আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, তাঁরই অনুগত হবে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে। (আলে ইমরানঃ ৮৩) আল্লাহ তায়া’লা আরো বলেনঃ অতএব,তোমার পালনকর্তার কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। (নিসাঃ ৬৫) তাওহীদের দিকে আহ্বানের ধর্ম ধর্মটি এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহবান করবে। শিরককে হারাম করবে। তাওহীদের প্রতি দাওয়াত সব নবী রাসুলেরই মূল দাওয়াত ছিল। শিরক ও পৌত্তলিকতা সুস্থ স্বভাব ও জ্ঞানবান বিবেক অস্বীকার করে। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ আপনার পূর্বে আমি যে রাসূলই প্রেরণ করেছি, তাকে এ আদেশই প্রেরণ করেছি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। সুতরাং আমারই এবাদত কর। (আম্বিয়াঃ ২৫) প্রত্যেক নবীই তাদের জাতিকে বলেছেনঃ সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। আমি তোমাদের জন্যে একটি মহাদিবসের শাস্তির আশঙ্কা করি। (আ’রাফঃ ৫৯) অতএব, যে ধর্মই শিরককে মেনে নেয় বা আল্লাহর সাথে কোন নবী রাসুল, ফেরেশতা, অলী, মানুষ বা পাথর ইত্যাদির অংশীদার করে সে সব ধর্ম বাতিল। কেননা ইবাদত শুধুমাত্র এক আল্লাহর, যার কোন শরিক নেই। পৌত্তলিকতা ও শিরক স্পষ্ট ভ্রান্ততা, ভ্রষ্টতা। যে কোন ধর্মই এমনকি যদিও তা আল্লাহর কাছ থেকে এসেছে যদি এতে শিরক প্রবেশ করে তাহলে তা বাতিল। আল্লাহ তায়া’লা এ ব্যাপারে উদাহরণ পেশ করে বলেনঃ হে লোক সকল! একটি উপমা বর্ণনা করা হলো, অতএব তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোন; তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের পূজা কর, তারা কখনও একটি মাছি সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা সকলে একত্রিত হয়। আর মাছি যদি তাদের কাছ থেকে কোন কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তার কাছ থেকে তা উদ্ধার করতে পারবে না, প্রার্থনাকারী ও যার কাছে প্রার্থনা করা হয়, উভয়েই শক্তিহীন। তারা আল্লাহর যথাযোগ্য মর্যাদা বোঝেনি। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর,মহাপরাক্রমশীল। (হাজ্বঃ ৭৩-৭৪) স্বভাবজাতের সাথে ঐক্যমতের ধর্ম www.aroadtohappiness.com অ্যাডাম স্মিথ স্কটিশ দার্শনিক কুসংস্কারের প্রতিষেধক বিজ্ঞান হল বিষাক্ত কুসংস্কারের প্রতিষেধক ইহা সুস্থ স্বভাবের সাথে একমত হতে হবে। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ তুমি একনিষ্ঠ ভাবে নিজেকে ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ। এটাই আল্লাহর প্রকৃতি, যার উপর তিনি মানব সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। এটাই সরল ধর্ম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না। (রূমঃ ৩০) ফিতরত হলো যে স্বভাবের উপর মহান আল্লাহ পাক মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। ইহা তার সৃষ্টির অংশ হয়ে যায়। যেহেতু দ্বীন মানুষের স্বভাবের উপযোগী হবেনা এটা হতে পারেনা। তা নাহলে সৃষ্টিকর্তা উক্ত দ্বীনের প্রবর্তক নয়। ইহা অসম্ভব ব্যাপার ও শিরক। আক্বলের সাথে ঐক্যমতের ধর্ম www.aroadtohappiness.com ডেভিড হিউম স্কটিশ দার্শনিক প্রমাণ দাও “প্রজ্ঞাবান হল সে ব্যক্তি যে প্রমানের উপর ভিত্তি করে বিশ্বাস করে।” সুস্থ আকল বা বিবেকের সাথে একমত হতে হবে। কেননা সত্য ধর্ম আল্লাহর শরিয়ত, আর সুস্থ বিবেকও আল্লাহর সৃষ্টি, তাই আল্লাহর শরিয়ত ও আল্লাহর সৃষ্টি পরস্পর বিরোধপূর্ণ হবে এটা অসম্ভব। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ তারা কি এই উদ্দেশ্যে দেশ ভ্রমণ করেনি, যাতে তারা সমঝদার হৃদয় ও শ্রবণ শক্তি সম্পন্ন কর্ণের অধিকারী হতে পারে? বস্তুতঃ চক্ষু তো অন্ধ হয় না, কিন্তু বক্ষ স্থিত অন্তরই অন্ধ হয়। (হাজ্বঃ ৪৬) তিনি আরো বলেনঃ নিশ্চয় নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে মুমিনদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। আর তোমাদের সৃষ্টিতে এবং চারদিকে ছড়িয়ে রাখা জীব জন্তুর সৃজনের মধ্যেও নিদর্শনাবলী রয়েছে বিশ্বাসীদের জন্য। দিবারাত্রির পরিবর্তনে, আল্লাহ আকাশ থেকে যে রিযিক (বৃষ্টি) বর্ষণ করেন অতঃপর পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত করেন, তাতে এবং বায়ুর পরিবর্তনে বুদ্ধিমানদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। এগুলো আল্লাহর আয়াত,যা আমি আপনার কাছে আবৃত্তি করি যথাযথরূপে। অতএব, আল্লাহ ও তাঁর আয়াতের পর তারা কোন কথায় বিশ্বাস স্থাপন করবে। (জাসিয়াঃ ৩-৬) সত্য ধর্ম কাল্পনিকতা, কুসংস্কার বা পরস্পর অসঙ্গতি দ্বারা পূর্ণ থাকতে পারেনা। ইহা সুস্থ বিবেকের পরিপন্থী। এক সময় একটি আদেশ দিবেন আবার অন্য সময় অন্য আরেকটি আদেশ দিবেন, একটি জিনিসকে হারাম করবেন, অতঃপর তা একদলের জন্য জন্য তা জায়েজ করবেন, আবার অন্যদের জন্য হারাম করবেন, অথবা সদৃশ বিষয়ে পার্থক্য করবেন, বা বিরোধপূর্ণ দুটি বিষয় একত্রিত করবেন সত্য ধর্ম কখনোই এরূপ হতে পারেনা। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ এরা কি লক্ষ্য করে না কোরআনের প্রতি? পক্ষান্তরে এটা যদি আল্লাহ ব্যতীত অপর কারও পক্ষ থেকে হত,তবে এতো অবশ্যই বহু বৈপরিত্য দেখতে পেত। (নিসাঃ ৮২) বরং সুস্পষ্ট দলিল প্রমানের উপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ বলে দিন,তোমরা সত্যবাদী হলে, প্রমাণ উপস্থিত কর। (বাকারাঃ ১১১) সংগৃহীত

প্রতিপালকের অস্তিত্বের প্রমাণ

প্রতিপালকের অস্তিত্বের প্রমাণ সৃষ্টির নিপুণতা স্বভাবজাতের আহ্বান সব জাতির ঐক্যমত আক্বলী অত্যাবশ্যকীয়তা প্রতিপালকের অস্তিত্বের প্রমাণ 4 প্রতিপালকের অস্তিত্বের প্রমাণ সৃষ্টির নিপুণতা - আপনি কি এ মহাবিশ্ব ও এর মধ্যে বিদ্যমান আকাশ ও জমিন দেখেছেন?! - আকাশ, গ্রহরাজি ও ছায়াপথ ইত্যাদির সৃষ্টি নিয়ে আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন? - জমিন ও জমিনের মধ্যে বিদ্যমান নদ-নদী, সমুদ্র,সমতল ও পাহাড় ইত্যাদি নিয়ে কি কখনো চিন্তাগবেষণা করেছেন?! - এ নিখুঁত বিন্যাস ও অনুপম সৃজন কি আপনাকে বিস্ময়াভূত করেনা?! - আপনার কি ধারণা? কে এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন এবং পূর্বের কোন নমুনা ছাড়া এত সুন্দর, সুনিপুনভাবে বিস্ময়কর আকৃতিতে তৈরি করেছেন, যা একটি সৌন্দর্য্যের প্রতীক হয়ে আছে ?! - আপনি কি মনে করেন যে ইহা নিজে নিজেই সৃষ্ট হয়েছে? নাকি এর রয়েছে একজন শক্তিমান মহান স্রষ্টা?! আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ নিশ্চয় আসমান ও যমীন সৃষ্টিতে এবং রাত্রি ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বোধ সম্পন্ন লোকদের জন্যে। যাঁরা দাঁড়িয়ে, বসে, ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং চিন্তা গবেষণা করে আসমান ও জমিন সৃষ্টির বিষযে, (তারা বলে) পরওয়ারদেগার! এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। সকল পবিত্রতা তোমারই, আমাদিগকে তুমি দোযখের শাস্তি থেকে বাঁচাও। (আলে ইমরানঃ ১৯০-১৯১) www.aroadtohappiness.com রবার্ট মরিস পেইজ প্রকৃতিবিদ স্বভাবগত বোধ “আমরা যে ইলাহের অস্তিত্ব মানি বস্তু জগতের সাথে তার কোন সম্বন্ধ নেই। আমাদের সীমিত অনুভব শক্তি তাকে পূর্ণভবে বুঝতে সক্ষম নয়। তাই প্রকৃতি বিজ্ঞানের মাধ্যমে তার অস্তিত্ব প্রমান করার চেষ্টা করা অনর্থক। কারণ, তার ব্যপ্তি প্রকৃতির সীমিত পরিধির বাইরে বিস্তৃত। আল্লাহর অস্তিত্বের বিশ্বাস হল এমন একটি বিশেষ ব্যপার যা মানুষের অনুভবে ও হৃদয়ে অংকুরিত হয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পরিসরে বেড়ে উঠে।” কখনো কি আপনি নিজের সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করেছেন? আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও, তোমরা কি অনুধাবন করবে না? (যারিয়াতঃ২১) মানুষ কিভাবে সৃষ্ট হয়েছে? আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ তারা কি আপনা-আপনিই সৃজিত হয়ে গেছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা? না তারা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছে? বরং তারা বিশ্বাস করে না। (তুরঃ ৩৫-৩৬) মানুষ যখন এমনিতেই সৃষ্টি হয়নি – তারা নিজেদেরকে সৃষ্টি করা থাক দূরের কথা বরং আসমান জমিন কিছুই সৃষ্টি করেনি- তাহলে সন্দেহাতীতভাবে বলা যায় এ মহাবিশ্ব ও এর ভিতর যা কিছু আছে তার একজন মহান স্রষ্টাআছে, তিনি হলেন আল্লাহ তায়া’লা। এসব দলীল প্রমানের পরেও সে সুনিপুণ আকৃতি দানকারী মহান আল্লাহর অস্তিত্বের অস্বীকার কারীদের ব্যাপারে আশ্চর্য না হয়ে পারা যায়না !! স্বভাবজাতের আহ্বান www.aroadtohappiness.com গেষ্টন ব্যারেট অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক গবেষক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্বভাবগত “স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠা শিশুদের বিবেক তদেরকে তাড়িত করে কোন সৃষ্টি কর্তা ও ইলাহের উপর ঈমান আনতে, বিবর্তনবাদের উপর নয়, যা মানব বুদ্ধির জন্য অস্বাভাবিক , দূর্গ্রাহ্য, ও দূর্বোধ্য। “ স্বভাবগতভাবেই নিঃসন্দেহে সৃষ্টজীব তার মহান স্রষ্টাকে স্বীকার করে। যেভাবে স্বভাবগতভাবে তারা কল্যাণকর জিনিস পছন্দ করে আর খারাপ জিনিস অপছন্দ করে। বরং স্রষ্টার অস্তিত্ব স্বীকার করা মানুষের মনে স্বভাবজাতগত ও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত, যার জন্য কোন দলীল প্রমাণের দরকার পড়েনা। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ তুমি একনিষ্ঠ ভাবে নিজেকে ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ। এটাই আল্লাহর প্রকৃতি, যার উপর তিনি মানব সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। এটাই সরল ধর্ম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না। (রূমঃ ৩০) নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাহিস সালাম বলেছেনঃ “প্রত্যেক ভুমিষ্ঠজাত শিশুই স্বভাবপ্রসূত হয়ে জন্ম গ্রহণ করে” (বুখারী ও মুসলিম) সব জাতির ঐক্যমত www.aroadtohappiness.com জন ক্লিভল্যান্ড কোথ্র্যান ডোলাথ ভার্সিটির প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক বিবেক বান হও “কোন বিবেকবান কি কল্পনা করবে বা বিশ্বাস করবে যে, বিবেক ও প্রজ্ঞা বাদে পদার্থ আকস্মিকতার মাধ্যমে নিজেই নিজের অস্তিত্ব দান করেছে?! “ সৃষ্টির শুরু থেকেই সব জাতি এ ব্যাপারে একমত যে, এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন। সুতরাং একথা দৃঢ়ভাবে বলা যায় যে, আল্লাহ তায়া’লা এ মহাবিশ্ব কোন অংশীদার ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন। কোন জাতিই এ কথা বলেননি যে, আসমান- জমীনে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন স্রষ্টা বা রিজিকদাতা আছেন। বরং যখনই তাদেরকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয় তখনই তারা অকপটে আল্লাহ তাআলার প্রভূত্বকে স্বীকার করে – শিরক সহকারে- । আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছে, চন্দ্র ও সূর্যকে কর্মে নিয়োজিত করেছে? তবে তারা অবশ্যই বলবে আল্লাহ। তাহলে তারা কোথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে? আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করে দেন এবং যার জন্য ইচ্ছা হ্রাস করেন। নিশ্চয়, আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত। যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করে, অতঃপর তা দ্বারা মৃত্তিকাকে উহার মৃত হওয়ার পর সঞ্জীবিত করে? তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা বোঝে না। (আনকাবুতঃ ৬১-৬৩) আল্লাহ তায়া’লা আরো বলেনঃ আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন কে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, এগুলো সৃষ্টি করেছেন পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহ। (জুখরুফঃ ৯) তবে নাস্তিকতা ও আল্লাহকে অস্বীকার – যা ইতিপূর্বে খন্ডন করা হয়েছে- অস্বাভাবিকত্ব ও বিচ্ছিন্ন ঘটনামাত্র যা নাস্তিকদেরকে জ্ঞানীদের কাতার থেকে পিছিয়ে রেখেছে, পৃথিবীতে এর ব্যর্থতা ও অসারতা স্পষ্ট হয়ে গেছে। আক্বলী অত্যাবশ্যকীয়তা www.aroadtohappiness.com ফ্রান্সিস বেকন ইংরেজ দার্শনিক দর্শন ও ধর্ম “স্বল্প দর্শন মানুষকে নাস্তিকতার কাছে নিয়ে যায়, আর দর্শনের গভিরতা তাকে ধর্মের কাছে ফিরিয়ে আনে। “ আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণে উপরোল্লিখিত এ সব দলীল প্রমাণ ছাড়াও মানুষের বিবেকই সবচেয়ে বড় প্রমাণ যে, এ সুনিপুণ সৃষ্টি নিজে নিজে হতে পারেনা, এগুলো নতুন সৃষ্টবস্তু, যা একসময় ছিলনা। আর প্রত্যেক নতুন সৃষ্টবস্তুই – সন্দেহাতীতভাবে- একজন স্রষ্টার মুখাপেক্ষী। এখন নিজেকে একটি প্রশ্ন করুনঃ আপনি জীবনে কতবার বিপদে পড়েছেন? সে সময় আপনি কার নিকট আশ্রয় চেয়েছেন? কার নিকট আকুতি মিনতি করেছেন? কার নিকট আশা করেছেন যিনি আপনার বিপদআপদ দূর করে দিবেন?! আল্লাহ পাক বলেনঃ যখন মানুষকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে একাগ্রচিত্তে তার পালনকর্তাকে ডাকে, অতঃপর তিনি যখন তাকে নেয়ামত দান করেন, তখন সে কষ্টের কথা বিস্মৃত হয়ে যায়, যার জন্যে পূর্বে ডেকেছিল এবং আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করে; যাতে করে অপরকে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করে। বলুন, তুমি তোমার কুফর সহকারে কিছুকাল জীবনোপভোগ করে নাও। নিশ্চয় তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভূক্ত। (যুমারঃ ৮) আল্লাহ পাক বলেনঃ তিনিই তোমাদের ভ্রমন করান স্থলে ও সাগরে। এমনকি যখন তোমরা নৌকাসমূহে আরোহণ করলে আর তা লোকজনকে অনুকূল হাওয়ায় বয়ে নিয়ে চলল এবং তাতে তারা আনন্দিত হল, নৌকাগুলোর উপর এল তীব্র বাতাস, আর সর্বদিক থেকে সেগুলোর উপর ঢেউ আসতে লাগল এবং তারা জানতে পারল যে, তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, তখন ডাকতে লাগল আল্লাহকে তাঁর এবাদতে নিঃস্বার্থ হয়ে যদি তুমি আমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করে তোল, তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব। তারপর যখন তাদেরকে আল্লাহ বাঁচিয়ে দিলেন, তখনই তারা পৃথিবীতে অনাচার করতে লাগল অন্যায় ভাবে। হে মানুষ! শোন, তোমাদের অনাচার তোমাদেরই উপর পড়বে। পার্থিব জীবনের সুফল ভোগ করে নাও-অতঃপর আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন আমি বাতলে দেব, যা কিছু তোমরা করতে। (ইউনুসঃ ২২-২৩) আল্লাহ পাক আরো বলেনঃ যখন তাদেরকে মেঘমালা সদৃশ তরংগ আচ্ছাদিত করে নেয়, তখন তারা খাঁটি মনে আল্লাহকে ডাকতে থাকে। অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে স্থলভাগের দিকে উদ্ধার করে আনেন, তখন তাদের কেউ কেউ সরল পথে চলে। কেবল মিথ্যাচারী, অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিই আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করে। (লোকমানঃ ৩২) সৃষ্টির নিপুণতা স্বভাবজাতের আহ্বান সব জাতির ঐক্যমত আক্বলী অত্যাবশ্যকীয়তা প্রতিপালকের অস্তিত্বের প্রমাণ 4 প্রতিপালকের অস্তিত্বের প্রমাণ সৃষ্টির নিপুণতা - আপনি কি এ মহাবিশ্ব ও এর মধ্যে বিদ্যমান আকাশ ও জমিন দেখেছেন?! - আকাশ, গ্রহরাজি ও ছায়াপথ ইত্যাদির সৃষ্টি নিয়ে আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন? - জমিন ও জমিনের মধ্যে বিদ্যমান নদ-নদী, সমুদ্র,সমতল ও পাহাড় ইত্যাদি নিয়ে কি কখনো চিন্তাগবেষণা করেছেন?! - এ নিখুঁত বিন্যাস ও অনুপম সৃজন কি আপনাকে বিস্ময়াভূত করেনা?! - আপনার কি ধারণা? কে এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন এবং পূর্বের কোন নমুনা ছাড়া এত সুন্দর, সুনিপুনভাবে বিস্ময়কর আকৃতিতে তৈরি করেছেন, যা একটি সৌন্দর্য্যের প্রতীক হয়ে আছে ?! - আপনি কি মনে করেন যে ইহা নিজে নিজেই সৃষ্ট হয়েছে? নাকি এর রয়েছে একজন শক্তিমান মহান স্রষ্টা?! আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ নিশ্চয় আসমান ও যমীন সৃষ্টিতে এবং রাত্রি ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বোধ সম্পন্ন লোকদের জন্যে। যাঁরা দাঁড়িয়ে, বসে, ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং চিন্তা গবেষণা করে আসমান ও জমিন সৃষ্টির বিষযে, (তারা বলে) পরওয়ারদেগার! এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। সকল পবিত্রতা তোমারই, আমাদিগকে তুমি দোযখের শাস্তি থেকে বাঁচাও। (আলে ইমরানঃ ১৯০-১৯১) www.aroadtohappiness.com রবার্ট মরিস পেইজ প্রকৃতিবিদ স্বভাবগত বোধ “আমরা যে ইলাহের অস্তিত্ব মানি বস্তু জগতের সাথে তার কোন সম্বন্ধ নেই। আমাদের সীমিত অনুভব শক্তি তাকে পূর্ণভবে বুঝতে সক্ষম নয়। তাই প্রকৃতি বিজ্ঞানের মাধ্যমে তার অস্তিত্ব প্রমান করার চেষ্টা করা অনর্থক। কারণ, তার ব্যপ্তি প্রকৃতির সীমিত পরিধির বাইরে বিস্তৃত। আল্লাহর অস্তিত্বের বিশ্বাস হল এমন একটি বিশেষ ব্যপার যা মানুষের অনুভবে ও হৃদয়ে অংকুরিত হয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পরিসরে বেড়ে উঠে।” কখনো কি আপনি নিজের সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করেছেন? আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও, তোমরা কি অনুধাবন করবে না? (যারিয়াতঃ২১) মানুষ কিভাবে সৃষ্ট হয়েছে? আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ তারা কি আপনা-আপনিই সৃজিত হয়ে গেছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা? না তারা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছে? বরং তারা বিশ্বাস করে না। (তুরঃ ৩৫-৩৬) মানুষ যখন এমনিতেই সৃষ্টি হয়নি – তারা নিজেদেরকে সৃষ্টি করা থাক দূরের কথা বরং আসমান জমিন কিছুই সৃষ্টি করেনি- তাহলে সন্দেহাতীতভাবে বলা যায় এ মহাবিশ্ব ও এর ভিতর যা কিছু আছে তার একজন মহান স্রষ্টাআছে, তিনি হলেন আল্লাহ তায়া’লা। এসব দলীল প্রমানের পরেও সে সুনিপুণ আকৃতি দানকারী মহান আল্লাহর অস্তিত্বের অস্বীকার কারীদের ব্যাপারে আশ্চর্য না হয়ে পারা যায়না !! স্বভাবজাতের আহ্বান www.aroadtohappiness.com গেষ্টন ব্যারেট অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক গবেষক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্বভাবগত “স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠা শিশুদের বিবেক তদেরকে তাড়িত করে কোন সৃষ্টি কর্তা ও ইলাহের উপর ঈমান আনতে, বিবর্তনবাদের উপর নয়, যা মানব বুদ্ধির জন্য অস্বাভাবিক , দূর্গ্রাহ্য, ও দূর্বোধ্য। “ স্বভাবগতভাবেই নিঃসন্দেহে সৃষ্টজীব তার মহান স্রষ্টাকে স্বীকার করে। যেভাবে স্বভাবগতভাবে তারা কল্যাণকর জিনিস পছন্দ করে আর খারাপ জিনিস অপছন্দ করে। বরং স্রষ্টার অস্তিত্ব স্বীকার করা মানুষের মনে স্বভাবজাতগত ও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত, যার জন্য কোন দলীল প্রমাণের দরকার পড়েনা। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ তুমি একনিষ্ঠ ভাবে নিজেকে ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ। এটাই আল্লাহর প্রকৃতি, যার উপর তিনি মানব সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। এটাই সরল ধর্ম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না। (রূমঃ ৩০) নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাহিস সালাম বলেছেনঃ “প্রত্যেক ভুমিষ্ঠজাত শিশুই স্বভাবপ্রসূত হয়ে জন্ম গ্রহণ করে” (বুখারী ও মুসলিম) সব জাতির ঐক্যমত www.aroadtohappiness.com জন ক্লিভল্যান্ড কোথ্র্যান ডোলাথ ভার্সিটির প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক বিবেক বান হও “কোন বিবেকবান কি কল্পনা করবে বা বিশ্বাস করবে যে, বিবেক ও প্রজ্ঞা বাদে পদার্থ আকস্মিকতার মাধ্যমে নিজেই নিজের অস্তিত্ব দান করেছে?! “ সৃষ্টির শুরু থেকেই সব জাতি এ ব্যাপারে একমত যে, এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন। সুতরাং একথা দৃঢ়ভাবে বলা যায় যে, আল্লাহ তায়া’লা এ মহাবিশ্ব কোন অংশীদার ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন। কোন জাতিই এ কথা বলেননি যে, আসমান- জমীনে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন স্রষ্টা বা রিজিকদাতা আছেন। বরং যখনই তাদেরকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয় তখনই তারা অকপটে আল্লাহ তাআলার প্রভূত্বকে স্বীকার করে – শিরক সহকারে- । আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছে, চন্দ্র ও সূর্যকে কর্মে নিয়োজিত করেছে? তবে তারা অবশ্যই বলবে আল্লাহ। তাহলে তারা কোথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে? আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করে দেন এবং যার জন্য ইচ্ছা হ্রাস করেন। নিশ্চয়, আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত। যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করে, অতঃপর তা দ্বারা মৃত্তিকাকে উহার মৃত হওয়ার পর সঞ্জীবিত করে? তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা বোঝে না। (আনকাবুতঃ ৬১-৬৩) আল্লাহ তায়া’লা আরো বলেনঃ আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন কে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, এগুলো সৃষ্টি করেছেন পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহ। (জুখরুফঃ ৯) তবে নাস্তিকতা ও আল্লাহকে অস্বীকার – যা ইতিপূর্বে খন্ডন করা হয়েছে- অস্বাভাবিকত্ব ও বিচ্ছিন্ন ঘটনামাত্র যা নাস্তিকদেরকে জ্ঞানীদের কাতার থেকে পিছিয়ে রেখেছে, পৃথিবীতে এর ব্যর্থতা ও অসারতা স্পষ্ট হয়ে গেছে। আক্বলী অত্যাবশ্যকীয়তা www.aroadtohappiness.com ফ্রান্সিস বেকন ইংরেজ দার্শনিক দর্শন ও ধর্ম “স্বল্প দর্শন মানুষকে নাস্তিকতার কাছে নিয়ে যায়, আর দর্শনের গভিরতা তাকে ধর্মের কাছে ফিরিয়ে আনে। “ আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণে উপরোল্লিখিত এ সব দলীল প্রমাণ ছাড়াও মানুষের বিবেকই সবচেয়ে বড় প্রমাণ যে, এ সুনিপুণ সৃষ্টি নিজে নিজে হতে পারেনা, এগুলো নতুন সৃষ্টবস্তু, যা একসময় ছিলনা। আর প্রত্যেক নতুন সৃষ্টবস্তুই – সন্দেহাতীতভাবে- একজন স্রষ্টার মুখাপেক্ষী। এখন নিজেকে একটি প্রশ্ন করুনঃ আপনি জীবনে কতবার বিপদে পড়েছেন? সে সময় আপনি কার নিকট আশ্রয় চেয়েছেন? কার নিকট আকুতি মিনতি করেছেন? কার নিকট আশা করেছেন যিনি আপনার বিপদআপদ দূর করে দিবেন?! আল্লাহ পাক বলেনঃ যখন মানুষকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে একাগ্রচিত্তে তার পালনকর্তাকে ডাকে, অতঃপর তিনি যখন তাকে নেয়ামত দান করেন, তখন সে কষ্টের কথা বিস্মৃত হয়ে যায়, যার জন্যে পূর্বে ডেকেছিল এবং আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করে; যাতে করে অপরকে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করে। বলুন, তুমি তোমার কুফর সহকারে কিছুকাল জীবনোপভোগ করে নাও। নিশ্চয় তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভূক্ত। (যুমারঃ ৮) আল্লাহ পাক বলেনঃ তিনিই তোমাদের ভ্রমন করান স্থলে ও সাগরে। এমনকি যখন তোমরা নৌকাসমূহে আরোহণ করলে আর তা লোকজনকে অনুকূল হাওয়ায় বয়ে নিয়ে চলল এবং তাতে তারা আনন্দিত হল, নৌকাগুলোর উপর এল তীব্র বাতাস, আর সর্বদিক থেকে সেগুলোর উপর ঢেউ আসতে লাগল এবং তারা জানতে পারল যে, তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, তখন ডাকতে লাগল আল্লাহকে তাঁর এবাদতে নিঃস্বার্থ হয়ে যদি তুমি আমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করে তোল, তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব। তারপর যখন তাদেরকে আল্লাহ বাঁচিয়ে দিলেন, তখনই তারা পৃথিবীতে অনাচার করতে লাগল অন্যায় ভাবে। হে মানুষ! শোন, তোমাদের অনাচার তোমাদেরই উপর পড়বে। পার্থিব জীবনের সুফল ভোগ করে নাও-অতঃপর আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন আমি বাতলে দেব, যা কিছু তোমরা করতে। (ইউনুসঃ ২২-২৩) আল্লাহ পাক আরো বলেনঃ যখন তাদেরকে মেঘমালা সদৃশ তরংগ আচ্ছাদিত করে নেয়, তখন তারা খাঁটি মনে আল্লাহকে ডাকতে থাকে। অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে স্থলভাগের দিকে উদ্ধার করে আনেন, তখন তাদের কেউ কেউ সরল পথে চলে। কেবল মিথ্যাচারী, অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিই আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করে। (লোকমানঃ ৩২)

Wednesday, January 4, 2017

আল্লাহর অস্তিত্ত্বের কিছু প্রমাণ- পর্ব ১

আল্লাহর অস্তিত্ত্বের কিছু প্রমাণ- পর্ব ১

মানব জাতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে হয়ত দেখা যাবে যে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের প্রশ্নে যুগে যুগে ঐতিহাসিক, বিজ্ঞানী, দার্শনিকদের মনে প্রশ্নের কোন কমতি ছিল না । বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার সাথে সাথে এই প্রশ্ন এখন অনেকটা মহামারির আকার ধারন করেছে । বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বের একদল বিজ্ঞানীরা রীতিমত ধর্মের তথা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্তের বিরুদ্ধে একধরণের যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন । বই লেখা থেকে শুরু করে টেলিভিশন, রাস্তার বিলবোর্ড, বিভিন্ন ধরনের প্রচারাভিযান এবং কনফারেন্স ইত্যাদির মাধ্যমে তারা পুরো শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছেন । যার প্রভাব আমাদের দেশের একদল তরুণদের মাঝেও বিস্তর লাভ করতে সক্ষম হয়েছে । যারফলে বাংলাদেশে ইন্টারনেটের আবির্ভাবের সাথে সাথে কয়েকটা ব্লগেরও জন্ম হয় । বস্তুতঃ এটা এখন আরেকটি নতুন ধর্মের জন্ম দিয়েছে যার নাম হল নাস্তিক্যবাদ । অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায়, যারা ধর্ম পালন করেন তাদের বেশীর ভাগই যেমন অনেকটা শুধু বিশ্বাসের অথবা জন্মগত সূত্রের উপর ভিত্তি করেই ধর্মকে পালন করেন তেমনি এই নতুন ধর্ম তথা নাসস্তিক্যবাদে যারা বিশ্বাস করেন তারাও আবেগ এবং বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই করে থাকেন । যাইহোক, আমি কয়েকটি স্তরে ধারাবাহিকভাবে আল্লাহ বা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব প্রমাণ করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ্‌ ।
নাস্তিকদের একটা সাধারণ যুক্তি হল “যা দেখা যায়না তার অস্তিত্ব নেই” । এটাকে অভিজ্ঞতা বাদও বলা হয়ে থাকে । অভিজ্ঞতাই যাবতীয় জ্ঞানের উত্স এই মত অর্থাৎ আমাদের পঞ্চইন্দ্রিয় তথা দেখা, শোনা, স্পর্শ, স্বাদ এবং গন্ধ এর বাইরে জ্ঞানের কোন উত্স নেই । এবং বিজ্ঞানের মূল মন্ত্র হল এই অভিজ্ঞতাবাদ (Empiricism) অর্থাৎ সবকিছু হাতে কলমে প্রদর্শনের যে প্রক্রিয়া তাই বিজ্ঞান । কিন্তু আমাদের জীবনে অনেক কিছু আছে যা বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণ করা সম্ভব নয় । অর্থাৎ বিজ্ঞান সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, এটার সীমাবদ্ধতা আছে এবং কোন কিছুর সত্যতা যাচাই করার জন্য বিজ্ঞানই একমাত্র জ্ঞানের মাপকাঠি না । উদাহরণ স্বরূপ আপনি যে আপনার স্ত্রীকে বা কাউকে ভালবাসেন সেটা বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণ করা সম্ভব না । এমনিভাবে রাগ, অনুরাগ এবং যেকোনো নান্দনিকতা ইত্যাদি বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণ করা সম্ভব না । এবার আসুন একটা উদাহরণ দিয়ে “যা দেখা যায়না তার অস্তিত্ব নেই” তত্ত্বটির অসারতা বুঝার চেষ্টা করা যাক । ধরুন আজ আপনি বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার আগে তাড়াহুড়োর কারনে সবকিছু এলোমেলো ভাবে রেখে গেছেন, কোন কিছু গুছিয়ে রেখে যাতে পারেননি । কিন্তু আপনি দিন শেষে ঘরে ফিরে অবাক হয়ে দেখতে পেলেন আপনার ঘর খুব সুন্দর করে সাজানো গোছানো!!! কেউ এসে যে আপনার ঘরকে সাজিয়েছেন সেটা বিশ্বাস করার জন্য কি যে আপনার ঘরকে সাজিয়েছেন তাকে দেখাটা জরুরি? অবশ্যই না? অর্থাৎ না দেখেই সাজানো গোছানো ঘর থেকে আমরা যে ঘরকে সাজিয়াছেন তার অস্তিত্বের প্রমাণ পাই । সুতরাং “যা দেখা যায়না তার অস্তিত্ব নেই” কথাটা যুক্তি সংগত নয় । এ থেকে আমরা আরও বুঝতে পারি যে কোন এলোমেলো জিনিস আপনা আপনি নিজে নিজে সাজানো গুছানো হয়ে যায়না, কাউকে না কাউকে সাজাতে হয় । অর্থাৎ আমরা বিশৃংখলা থেকে আপনা আপনি সুশৃঙ্খলতা দেখতে পাই না । যেমনঃ একটা কাচের গ্লাসকে উপর থেকে ফেলে দিলে আমরা আরও কয়েকটা সুন্দর গ্লাসের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্ভব হতে দেখতে পাইনা বরং গ্লাসটি টুকরো টুকরো হয়ে ভেংগে যেতে দেখি । এটাই স্বাভাবিক এবং এটা একটা সার্বজনীন বিধান যেটা বুঝার জন্য কাউকে পি এইচ ডি করার দরকার হয়না । কিন্তু অভিজ্ঞতাবাদীরা সাধারণত বলে যে “একটা ঘর সাজানো-গোছানো দেখে আপনি ধরে নিচ্ছেন সেটার পেছনে কোনো একজন মানুষ আছে। আপনি কিন্তু ধরে নিচ্ছেন না সেটা কোনো ফেরেসতা বা জ্বীনের কাজ। কিন্তু কেন, কারণ হচ্ছে আপনার পূর্ব-অভিজ্ঞতা থেকে এটা জানেন যে এ কাজটা একজন মানুষই করে। আর মানুষ ব্যাপারটি আপনার কাছে পুরোপুরি বোধগম্য । এখন নদী-পাহাড়-পর্বত দেখে ঠিক কেন এর পেছনে ‘ঈশ্বর’ নামক কিছু একটা ভেবে নেবেন?” (সুত্রঃ মুক্তমনা)। এখানে আমার অভিজ্ঞতাবাদী বন্ধুরা হয়ত যুক্তিটি বুঝতে সক্ষম হননি অথবা বুঝেও না বুঝার ভান করছেন । কারন ঘটনাটা কে বা কিসে ঘটাল সেটা আমার মূল বক্তব্য নয় বরং এখানে মূল বিষয় হল “এটাকে ঘটানো হয়েছে”, ঘটনাটা এমনি এমনি ঘটেনি । এখন কে বা কিসে ঘটিয়েছে সেটা নির্ভর করবে ঘটনাটির ধরণের উপর । ধরুন একটা গাছ বাতাসের ঝাপটায় মাটিতে পড়ে গেল এক্ষেত্রে কারনটা হল বাতাস । আবার গাছটাকে যদি কেটে ফেলা হয় সে ক্ষেত্রে কারনটা হবে মানুষ । So, এখানে মুখ্য বিষয় হল “কারন”, “কে” সেটা নির্ভর করবে ঘটনার প্রকৃতির উপর । ব্যাপারটা আসা করি বুঝে আসছে । হ্যাঁ, আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা বলে দিচ্ছে যে ঘর সাজানোর কাজটা মানুষের কারন আমরা তা মানুষকেই করতে দেখেছি কিন্তু আপনি কি কখনও আপনার অভিজ্ঞতায় দেখেছেন কোন মানুষকে একটা নক্ষত্র বা একটা গাছ বা একটা মাছি বানাতে? সুস্থ মস্তিস্ক থাকলে অবশ্যই বলবেন না । কিন্তু এসব(নক্ষত্র বা একটা গাছ বা একটা মাছি) বানানোর ঘটনাটাত ঘটেছে । তাহলে আমাদের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা কমপক্ষে এতটুকু বলতে পারি যে ঘটনাটিকে ঘটান হয়েছে এটা এমনি এমনি ঘটেনি এবং ঘটনার প্রকৃতির উপর নির্ভর করবে কে বা কিসে ঘটনাটি ঘটাতে পারে । আমরা মহাবিশ্ব সম্পর্কে যতটুকু জানি তাতে এটা পরিষ্কার যে এটা কোন মানুষের পক্ষে বানানো সম্ভব না । আর এটাও পরিষ্কার যে এটা অতন্ত্য জটিল বা sophisticated। এটা জড় বুদ্ধিহীন কোন জিনিষের কাজ হতে পারে না । সুতরাং যুক্তিসঙ্গত কারনেই এগুলোকে যে ঘটিয়েছে সেই সত্ত্বাও অবশ্যই অসীম জ্ঞানের অধিকারী এবং সেই সত্ত্বার ইচ্ছা শক্তিও থাকতে হবে কারন ইচ্ছা শক্তি আছে বলেই তিনি এগুলো ঘটিয়েছেন । আর এই সত্ত্বাকেই আমরা “ঈশ্বর” বলে থাকি । আসা করি এখন বুঝতে পারছেন ঘঠনার কারনটি যে “সৃষ্টিকর্তা” কোন মানুসনা সেটা কিভাবে বোধগম্য হল, এবং “সৃষ্টিকর্তা” দ্বারা ব্যাখ্যা না করলে আর কোন অর্থবোধক ব্যাখ্যা হতে পারে না । আর সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস কোন অন্ধ বিশ্বাস নয়, এটা একটা যৌক্তিক অবস্থান । নিচে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের কয়েকটি প্রমাণ উল্লেখ করা হলঃ
১। মহাবিশ্বের অতিসূক্ষ্ম সমন্বয়পূর্ণতা
আমরা যদি আমাদের চারপাশে প্রকৃতির দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই সবকিছু একটা অতিসূক্ষ্ম সুশৃঙ্খল সমন্বয়পূর্ণ বিধানের মধ্যে আবর্তিত । মহাবিশ্ব তথা সৌরজগৎ, মহাকাশ, চাঁদ, সূর্য, পৃথিবী, গাছপালা ইত্যাদি প্রত্যেকটা জিনিষ একটা শুধু সূক্ষ্ম নয় বরং অতিসূক্ষ্ম সুশৃঙ্খল সমন্বয়পূর্ণ বিধান দ্বারা পরিচালিত । পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব যদি এক ইঞ্চিও বেশী বা কম হত তাহলে এই পৃথিবী বসবাসের উপযোগী হত না । বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ যদি একটু কম বা বেশী হত তাহেলও মানুষের অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারতনা । অর্থাৎ প্রকৃতির এ সবকিছুই একটা সু নির্দিষ্ট অতিসূক্ষ্ম সুশৃঙ্খল সমন্বয়পূর্ণ বিধানের মধ্যে আবর্তিত । যেহেতু মহাবিশ্বের সবকিছুর মধ্যে আমরা অতিসূক্ষ্ম সুশৃঙ্খল সমন্বয়পূর্ণতা দেখতে পাই সেহেতু আমাদের মনে এ প্রশ্ন জাগতে পারে যে এই অতিসূক্ষ্ম শৃঙ্খলা এল কিভাবে? এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আমাদেরকে একটু যুক্তি এবং বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করতে হবে । আসুন আরেকটা উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টাকে খোলাসা করা যাক । আপনার হাতের মোবাইল ফোনটাকেই ধরুন । এটা কাচ , পাস্টিক এবং metal বা ধাতু দ্বারা তৈরি । আমরা জানি কাঁচ বালু থেকে আসে, পাস্টিক আসে তেল থেকে আর ধাতু আসে ভূতল থেকে । এখন কল্পনা করুন আপনি কোন এক মরুভূমির পাশ দিয়ে হাঁটছেন যেখানে অনেক তেল, বালি এবং ধাতু পড়ে আছে এবং হঠাৎ আপনি দেখতে পেলেন যে খুব সুন্দর একটা মোবাইল ফোন পরে আছে । আপনি কি ধরেই নিবেন যে মোবাইল ফোনটা নিজে নিজেই তৈরি হয়েছে? অর্থাৎ সূর্যের উত্তাপে বজ্রপাত আর বাতেসের বেগে তেলগুলো বুদবুদ করে উপরে চলে এসে বালি আর ধাতুর সাথে সংমিশ্রিতি হয়ে লক্ষ কোটি বছর পরে এই মোবাইল ফোনটির আবির্ভাব হয়েছে!!! কেউ কি এই ধরনের ব্যাখ্যায় বিশ্বাস করবে? মোবাইল ফোন এমন একটা জিনিষ যেটাকে স্পষ্টতই কেউ না কেউ পরিকল্পিত চিন্তার দ্বারা ডিজাইন করে একে নির্মিত করেছেন । সুতরাং এটার একজন নির্মাতাও আছে । ঠিক একইভাবে আমরা মহাবিশ্বে যখন সূক্ষ্ম সুশৃঙ্খল সমন্বয় দেখি তখন এর পেছনে একজন সমন্বয় কারী আছে এটা ভাবাইকি যুক্তিসঙ্গত নয়? কিন্তু আমার নাস্তিক যুক্তিবাদী বন্ধুর মনে প্রশ্ন হলঃ “মহাবিশ্বের কোনো এক শৃঙ্খলা যদি ঈশ্বরের প্রমাণ হতে পারে তবে বিশৃঙ্খলা কিসের প্রমাণ হবে?”(সুত্রঃ মুক্তমনা) অর্থাৎ তিনি বুঝাতে চাচ্ছেন যে বিশৃঙ্খলা মানে কোন সৃষ্টিকর্তা নেই! আমি জানিনা নাস্তিকরা এখানে “বিশৃঙ্খলা” দ্বারা কি বুঝাতে চাচ্ছেন । উনারা যেটাই বুঝাতে চান না কেন এতে কোন সমস্যা নেই কারন শৃঙ্খলা বা উনাদের ভাষায় “বিশৃঙ্খলা” যেটাই হোক এসবই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বেরই প্রমাণ করে! শৃঙ্খলা বা বিশৃঙ্খলা কোন কিছুই এমনি এমনি স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সংগঠিত হয়না । কোথাও কি দেখেছেন এমনি এমনি বিশৃঙ্খলা ঘটতে? নাস্তিকদের understanding অনুযায়ী যখন কোন কিছু সাজানো গোছানো দেখবেন ধরে নেবেন এটা কোন মানুষের কাজ যেহেতু অভিজ্ঞতা তাই বলে আর যখন এলোমেলো কিছু দেখবেন তখন এর পেছনে কারন নেই, এটা দৈবক্রমে এমনি এমনি ঘটেছে । যুক্তিবাদির যুক্তি দেখেন!!!
২। মহাবিশ্বের সূত্রপাত
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে কিছু বিজ্ঞানী মনে করেছিলেন আমাদের এই মহাবিশ্ব সর্বদা বিদ্যমান ছিল সুতরাং এর কোন স্রষ্টার প্রয়োজন নেই যেহেতু কোন কিছু যদি সর্বদা বিদ্যমান থাকে তাহলে সেই জিনিষের কোন স্রষ্টা লাগে না । কিন্তু পরবর্তীতে (cosmologists ) মহাবিশ্বতত্ত্ববিদরা আবিষ্কার করল যে আমাদের এই মহাবিশ্বের একটা শুরু হয়েছিল, এর সূত্রপাত হয়েছিল প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর আগে একটা বিশেষ মহাজাগতিক ঘটনার মাধ্যমে যেটাকে মহা বিস্ফোরণ (big-bang) বলা হয় । এবং বিজ্ঞানীদের কাছে এই theory বা তত্ত্বটা সর্বাধিক গৃহীত হয়েছে যেহেতু এই তত্ত্বটা পর্যবেক্ষণযোগ্য । যাইহোক, এখন আসাযাক এই তত্ত্বের তথা এই মহা বিস্ফোরণ (big-bang) এর মূল বিষয়ে । এই তত্ত্বের মূল সারমর্ম হল; এই মহাবিশ্ব তথা আমাদের সৌরজগৎ, চাঁদ, অগণিত তারা, সূর্য, ধুমকেতু এসবই প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর আগে একটা ছোট পিণ্ডের মত ছিল এবং সেই অবস্থায় একদিন হঠাৎ একটা মহাবিস্ফোরণ বা big bang হয় এবং এই মহাবিস্ফোরণের পর আমাদের এই সৌরজগৎ সহ এই মহাবিশ্বের আবির্ভাব হয়! এবার ভেবে দেখুনতো, আপনি আপনার ড্রয়িংরুমে বসে আছেন আর হঠাৎ করে পাশের ঘর থেকে একটা বিকট আওয়াজ শুনতে পেলেন । হৎচকিয়ে আপনি পাশে বসে থাকা আপনার ছোট ভাইকে বললেন “কি হয়েছে দেখত” । সে পাশের ঘর থেকে ঘুরে এসে বলল “কিছুই হয়নি, ওঘরে কেউ নেই এমনি এমনি কোন কারন ছাড়াই একটা বিকট শব্দ হয়েছে” শুধু তাইনা সে আরও বলল যে “বিকট আওয়াজের পর ঘরের যাকিছু ছিল সবকিছু সাজানো গুছানো এবং নতুন হয়ে গেছে” । আপনি আপনার ভাইকে কি বলবেন বা করবেন সেটা আপনার উপরই ছেড়ে দিলাম । কিন্তু আপনি অবশ্যই তার কথা কক্ষনোই বিশ্বাস করবেন না । কারন আপনি জানেন যে কোন কারণ ছাড়া এমনি এমনি কোন কিছু ঘটেনা । আপনি নিজেকে প্রশ্ন করবেন কে বা কিসে এই বিকট শব্দটি ঘটাল? এর পিছনে উদ্দেশ্যটা কি? আরও নানা রকম প্রশ্নের উদ্রেক হওয়াটাই খুবই স্বাভাবিক । ঠিক এই একই যুক্তিতে আমরা বলতে পারি মহা বিস্ফোরণ (big-bang) এরও অবশ্যই একটা কারন আছে তথা কেউ না কেউ এটাকে ঘটিয়েছে, এটা এমনি এমনি ঘটেনি । আপনার ছোট ঘরের মধ্যে যদি এমনি এমনি কিছু ঘটতে না পারে তাহলে মহাবিশ্বের মহাবিস্ফোরণ এমনি এমনি ঘটারতো কোন কারন থাকার কথা না । এবং যে ঘটিয়েছে তাকে অবশ্যই খুবই প্রজ্ঞাময়ি এবং বিচক্ষন হতে হবে । কারন কোন সৃষ্টি যত জটিল এর সৃষ্টি কর্তাও তত বেশী বিচক্ষন হয় । মহাবিশ্বের চেয়ে জটিল সৃষ্টি আর কি হতে পারে? সুতরাং এর সৃষ্টি কর্তাকেও মহা প্রজ্ঞাময় হতে হবে, বরং তার প্রজ্ঞা আমাদের ধারনার সীমানার বাইরে ।
একটি প্রশ্নের জবাবঃ সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছেন?
আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি নাস্তিকরা উপরোল্লিখিত এই যুক্তিটা খণ্ডন করতে পারে না কিন্তু এই যুক্তির উপর ভিত্তি করে পাল্টা আরেকটা যুক্তি পেশ করে । তারা জিজ্ঞাসা করে যে ঠিক আছে যদি সবকিছুরই সৃষ্টি কর্তা থাকে তাহলে সৃষ্টি কর্তাকে কে সৃষ্টি করেছে? হুম, আমি তাদেরকে প্রশ্ন করি একটু ভেবে বলুনতো আমি কোথায় বলেছি যে “সবকিছুরই একটা সৃষ্টিকর্তা আছে”? আমি কখনোই বলি না যে “সবকিছুরই একটা সৃষ্টিকর্তা আছে” বরং সবকিছুই যেটার অস্তিত্বের শুরু আছে সেটারই একটা সৃষ্টিকর্তা আছে । শুরিতেই বলেছিলাম “মহাবিশ্বের একটা শুরু হয়েছিল” সুতরাং এটারও একটা সৃষ্টিকর্তা আছে । যাইহোক, কিন্তু নাস্তিকের মাথা থেকে এটা কোন ভাবেই যাচ্ছে না যে সৃষ্টকর্তা কিভাবে এল, তার অস্তিত্বের শুরু কিভাবে হল? আমি বলি সৃষ্টিকর্তার কোন সৃষ্টিকর্তা থাকতে পারে না আর সৃষ্টিকর্তার কোন শুরুও থাকা সম্ভব না । কারন তাহলে একটা যৌক্তিক অসম্ভাবনার সৃষ্টি হবে । আসুন একাটা উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টা বুঝার চেষ্টা করা যাক । ধরুন আপনি র‍্যাবের একজন চৌকস সৈনিক এবং খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা অপারেশনে একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে ধরার জন্য বেড়িয়েছেন । অপারেশনের কোন এক পর্যায়ে আপনারা যাকে খুঁজছেন তাকে আপনি বন্দুক হাতে যেতে দেখলেন । এখন আপনার হাতেও এ কে ৪৭ প্রস্তুত কিন্তু গুলি চালাবার আগে আপনাকে আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট হতে অনুমতি নিতে হবে । সংগে সংগে আপনি আপনার পেছনে দাড়িয়ে থাকা আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট অনুমতির জন্য জিজ্ঞাসা করলেন “স্যার, দেই গুলি করে, ক্রস ফায়ার বলে চালিয়ে দেব”? । কিন্তু আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আপনাকে বললেন যে “অপেক্ষা কর আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে আসি” । তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট অনুমতি চাওয়ার পর সেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা একই কথা বললেন “অপেক্ষা কর আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে আসি” । এখন এই পরিস্থিতি যদি অসীমভাবে চলতে থাকে তাহলে আপনি কি আদৌও আপনার ওই টার্গেটকে গুলি করতে পারবেন? কখনোই না । আপনি আপনার টার্গেটকে তখনই গুলি করতে পারবেন কেবলমাত্র কেউ যদি আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে এমন থাকে যার আর কারো কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নাই, যিনি self sufficient; আত্বনির্ভর স্বয়ংসম্পূর্ণ । এখন আমরা যদি বলি যে সৃষ্টিকর্তাকে সৃষ্টি করেছেন আরেক সৃষ্টিকর্তা এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন আরেক সৃষ্টিকর্তা এবং এভাবে যদি অনন্তকাল যেতে থাকি তাহলে সৃষ্টিকার্যই শুরু হবে না ঠিক র‍্যাবের সেই সৈনিকের মত কিন্তু সৃষ্টিজগত বিদ্যমান! (এটাকে গণিতবিদরা বলে (infinite regress) “অসীম পশ্চাদগমন” যেটা একটা যৌক্তিক অসম্ভাবনার জন্ম দেয় । আর বিজ্ঞানীদের নিকট “অসীম রাশি” বলতে কিছু নেই কারন এটা পর্যবেক্ষণ যোগ্য নয় এটা একটা কাল্পনিক রাশি । যেমন; অসীম রাশি থেকে কিছু যোগ বা বিয়োগ করলে অসীম রাশিই থাকে এর কোন পরিবর্তন হয়না )। সুতরাং এই যুক্তির আলোকে, সৃষ্টিজগত থেকে এটা স্পষ্টত প্রমানিত যে সৃষ্টিকর্তা একজনই এবং সৃষ্টিকর্তার কোন সৃষ্টিকর্তা থাকা সম্ভব নয় । আর এই সৃষ্টিকর্তা চিরন্তন, অনন্ত, কালাতীত এবং মহাজগতের বাইরে তথা সৃষ্টির বাইরে যেহেতু এসবই তার সৃষ্টি ।
উপরের আলোচনা থেকে আমরা নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারিঃ
ক) সবকিছু যেটার অস্তিত্বের একটি শুরু আছে সেটার শুরুর পেছনে একটি কারণ/উৎস(cause) আছে। –
খ) মহাবিশ্বের একটি শুরু আছে। সুতরাং:
গ) মহাবিশ্বের একটি কারণ/উৎস (cause) আছে।
এই কারণ/উৎস (cause) হচ্ছে সৃষ্টিকর্তা কারণ জড় বা জ্ঞানহীন কোন কিছু এই মহাবিশ্বের সৃষ্টির কারণ হতে পারে না । এই মডেলটি ভুল প্রমাণ করতে হলে আপনাকে ক) এবং খ) কে ভুল প্রমাণ করতে হবে । অর্থাৎ আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে কোন কোন জিনিষের অস্তিত্বের শুরু কোন কারন ছাড়াই হয়ে থাকে অর্থাৎ এমনি এমনি স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে হয়ে থাকে । যেমন ধরুন আপনি রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন আর হঠাৎ করে একটা মুরগির ডিম অথবা একটা গাড়ি বা এরকম যে কোন কিছু আপনার সামনে এসে হাজির হল!!! উল্লেখ্য যে আমি এটা বলছিনা যে সবকিছুর পেছনে একটা কারন আছে বরং যে জিনিসের অস্তিত্তের শুরু আছে সেই জিনিসেরই একটা কারন আছে ।
৩। বস্তুগত নৈতিক মুল্যবোধ
নাস্তিকদের বিশ্বাস অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তা বলতে কিছু নেই তাহলে আমার প্রশ্নঃ কোনটা ভাল আর কোনটা খারাপ সেটা নির্ধারণ করবে কে? ভাল মন্দের সংজ্ঞাই বা কি? আপনার মতে হয়ত কিছু কাজ ভাল এবং এর দ্বারা আপনার মানসিক শান্তি উপলব্ধি হয় । কিন্তু আরেকজনের কাছে হয়ত ঠিক এর বিপরীত তথা আপনার দৃষ্টিতে যেগুলো খারাপ কাজ সেগুলো করে শান্তি পায় । আপনি তাকে মন্দ ব্যাক্তিও বলতে পারবেন না যেহেতু সৃষ্টিকর্তার অনুপস্থিতিতে আমরা কারো অধিনে না, আমরা সবাই একেকটা স্বাধীন জীব, আমরা যেভাবে খুশি সেভাবে চলতে পারি । নাস্তিকরাও তাই বলে যে “কোন ছকে বাঁধা মতবাদ অনুসরন করতেই হবে এর কোন মানে নেই” । (সুত্রঃ মুক্তমনা)
এখানে আমার এই প্রশ্ন করার উদ্দেশ্য হল যে কারো কাছে যদি চূড়ান্ত জবাবদিহিতা করতে না হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে আমি বা আপনি কেউই ভাল মন্দের সংজ্ঞা নিরুপন করতে পারবনা । অর্থাৎ করো কাছে জবাবদিহিতা না থাকলে আমরা সার্বজনীন বস্তুগত ভাল বা মন্দ (absolute good বা bad) অথবা সার্বজনীন বস্তুগত সত্য বা মিথ্যা (absolute/objective truth বা false) কি তা কখনোই নির্ধারণ করতে পারব না এবং যার ফলাফল হত ভয়াবহ । কিন্তু আমরা জানি যে সার্বজনীন বস্তুগত নৈতিক মুল্যবোধ (absolute good বা bad) অথবা সার্বজনীন বস্তুগত সত্য বা মিথ্যার (absolute/objective truth বা false) অস্তিত্ব আছে । যেমন ধরুন ধর্ষণ করা যে মন্দ কাজ এটা সার্বজনীন এমনকি ধর্ষণকারীর কাছেও এটা খারাপ কাজ কারন সেও কখনও তার নিজের মা বা বোনকে কেউ ধর্ষণ করুক এটা কখনই চাইবে না । এখন প্রশ্ন হল এই চূড়ান্ত জবাবদিহিতা করবেন কার কাছে? এই চূড়ান্ত জবাবদিহিতা হতে হবে সৃষ্টিকর্তার কাছে । কেন? কারন সৃষ্টি কর্তা ছাড়া জবাবদিহিতার প্রশ্নই আসেনা । কারন তখন আমি ধরে নেব যে আমি একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আকস্মিকভাবে সৃষ্ট অন্যান্য প্রাণীর ন্যায় একটা জীব যেটা এমনি এমনি ঘঠেছে, আমার জীবনের কোন উদ্দেশ্য নেই কোন মানে নেই এবং মৃত্যর মধ্য দিয়ে আমি একদিন এই প্রক্রিয়ার মাঝে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাব । সুতরাং যতদিন বেচে থাকব ততদিন আমি শুধু আমার আরাম আয়েস, সুযোগ সুবিধা ইত্যাদি নিয়েই মশগুল থাকব যেহেতু মৃত্যর পর আর কিছু নেই। অন্যের কি হল বা না হল সেটা আমার কাছে কোন বিষয় না । আমার কাছে চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ, লুন্ঠন কোন খারাপ কাজ না । কিন্তু বাস্তবে আমরা তা দেখিনা । আর ঠিক এই কারনেই বর্তমান সময়ের অক্সফোর্ডের একজন বড় মাপের নাস্ত্যিক যার নাম জে এল ম্যাকি তার দি মিরাকল অফ থিয়িজম (The Miracle of Theism) নামক বইয়ের ১১৫-১১৬ পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেনঃ “If, then, there are such intrinsically prescriptive objective values, they make the existence of a god more probable than it would have been without them. Thus we have, after all, a defensible inductive argument from morality to the existence of a god” আমার রাফ অনুবাদ “যদি এরকম প্রকৃত প্রচলিত বস্তুগত নৈতিক মুল্যবোধ থেকে থাকে তাহলে সেটা সৃষ্টি কর্তার অস্তিত্বের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দেয় । সুতরাং, অবশেষে আমরা বস্তুগত নৈতিক মুল্যবোধের দ্বারা সৃষ্টি কর্তার অস্তিত্বের একটা inductive যুক্তি পেলাম” । অর্থাৎ বড় বড় নাস্তিকরাও স্বীকার করেন যে বস্তুগত নৈতিক মুল্যবোধের দ্বারা সৃষ্টি কর্তার অস্তিত্বের প্রমান পাওয়া যায় ।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে আমরা নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারিঃ
ক। যদি সৃষ্টি কর্তার অস্তিত্ব না থাকত, তাহলে বস্তুগত নৈতিক মুল্যবোধের অস্তিত্ব থাকত না
খ। বস্তুগত নৈতিক মুল্যবোধের অস্তিত্ব আছে
গ। সুতরাং, সৃষ্টি কর্তার অস্তিত্বও আছে ।
এখানে খেয়াল করার বিষয় হল যে আমি এটা বলছিনা যে নৈতিক জীবন যাপনের জন্য আমাদেরকে অবশ্যই সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস করতে হবে । আমি এটাও বলছিনা যে সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস না করলে আমরা বস্তুগত নৈতিক মুল্যবোধ কি তা সনাক্ত করতে পারবনা । আমার প্রশ্ন হল সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব ব্যাতিত বস্তুগত নৈতিক মুল্যবোধের অস্তিত্ব কি থাকতে পারে? অবশ্যই না । যদি বলি হ্যাঁ তাহলে কোনটা ভাল আর কোনটা খারাপ সেটা নির্ধারণ করবে কে? ভাল মন্দের সংজ্ঞাই বা কি?

Tuesday, January 3, 2017

The Truth About God



Home
The Truth About God.....

Many years ago I awoke in the middle of the night to the sound of my father in agony, it was to mark the beginning of the slow trip through hell called cancer. If you are going through this yourself or with someone close to you please forgive my use of that horrible word, few words can match it for horror. But such was the beginning of a process of questioning and thinking that ended for me some years after my father's death.
My first reaction to my father's pain was one that surprised and disturbed me a great deal; anger and resentment towards God. I never would have expected it. I am more than somewhat embarrassed and actually sad to have to tell you what I said to God, I actually told him "I know everyone has to die, but if you let Dad suffer horribly I'll never forgive you, because I know you can prevent it if you want to".
Fortunately, my father never went through the long suffering, the anticipation of which brought on my outburst to God. But it did leave me with a problem; I needed to know why God permits suffering. There was obviously something about the nature of God that I didn't understand.
So like whinnie-the-pooh I was determined to think, think, think.
The first rule in my process of inquiry that I determined to use for the answer to the question of God and suffering, was;  that the answer must be quite deductive, as opposed to inductive, in other words; an inductive conclusion is achieved by direct observation. For example, if you see me move a glass of water with my hand you know how that glass was moved. However, if you don't directly see me move the glass, but I'm the only other person in the room you can deduce that I moved the glass. Similarly, most conclusions as to why God permits wickedness are somewhat inductive; God exists, God is all powerful, wickedness exists, therefore God permits wickedness.
The second rule of inquiry was a principle of deductive reasoning that Sherlock Holmes tried to impress on Watson "When you have eliminated every possibility, whatever is left, no matter how impossible must be true". In other words, if you come to a crime scene, and you eliminate every possible murder weapon except for a green monkey with a red machete, you have to put aside your preconceptions and preferences and look for a green monkey with a red machete.
The third rule of inquiry was a principle of tenacity from my Dad. I remember one time many years ago I was out on the patio with my Dad and my oldest brother came up and very smugly said "no one can understand the fact that God has no beginning or end". To which Dad said "well, I don't understand it, but that doesn't mean it can't be understood. You can understand anything if you think about it long enough, look at what Einstein did with Time. Who would have thought that Time could be so well understood?".
The forth principle was one from my mother, and although I wasn't going to consider it binding I wanted to honour it if I could. She maintained that "the truths about God elevate him, and lies about him degrade him".
So, armed with these four principles of inquiry:
1. The problem must be quite deductive and not inductive.
2. After I had eliminated every possibility whatever was left, no matter how impossible, I had to accept.
3. You can understand anything if you think about it long and hard enough.
4. The truth about God should elevate your view of him.
And so, my pondering began.
The first question I asked of the great 'out there' was "is this just the way things are supposed to be?". Interestingly, the bottom line of all medicine, law, religion, philosophy, and much science is the simple sentence "things ain't right". Medicine tries to repair and prevent, Law tries to control and correct, Religion and Philosophy try to explain, and much of Science tries to repair.
So the answer to the first question is; No, this is not the way things are supposed to be.
The second question, which at first seems to be the same as the first question is "is the earth being lived in according to God's will?". Now this is where it gets interesting, logically the answer must be the same as the answer to the first question; "No, the earth is not being lived in according to God's will". So, stated differently; the earth is being lived in against God's will. As I thought about this I realized; if you can do something against someone's will, that person obviously has limitations. For example, if I come into your house and take some of your possessions against your will, I can only do that if I'm stronger than you or I have legal powers over you, as in the case of a repossession. But in each case you have limitations. If you had unlimited control or powers there is no way I could take those possessions against your will. Likewise the earth can't be lived on in a manner against God's will if he's unlimited, therefore God must in fact be a limited being. This, needless to say, is something I had never heard before anywhere, but invoking the Holmesian principle "when you have eliminated every possibility, whatever is left no matter how impossible must be true" requires you to come to that conclusion. And in fact, the Lord's Prayer confirms this; by asking for God's will to be done on Earth, it is apparent that the Earth is existing in a condition against his will (Matt 6:10). And on the night preceding his death, when Jesus begged for "this cup" to be "removed" because it was not 'his will', who was he picturing ?(Luke 22:42) 
But if this is true; that these conditions exist against God's will, it seems to degrade God and not elevate him. But consider this illustration: A good strong man gets into a situation where he has to fight a dirty streetfighter, well, he makes a resolve to himself that he's not going to fight dirty just to win a fight. So, he wades into the fight and probably takes a few more licks than he would have if he'd fought dirty, but, by golly, he wins. As he walks away from the fight do you view him as a weak man because he limited himself to fighting clean? Hardly. His limitations actually make you view him with more respect. Actually, the Bible says that God cannot lie... That's a limitation, it also says he can't leave his word unfulfilled, or a promise unkept... Those are limitations too. So limitations can be a good thing and a sign of strength. So mom's still right.
So, the first conclusion I came to (there are three main conclusions and one super-conclusion) is: God is limited.
The second point is actually quite straightforward, if unorthodox. And it is this; anyone who suffers unfairly against their will is a victim. That, in fact is the definition of a victim. So God by definition is a victim: His creation has somehow been wrested from him and abused in front of his eyes against his will with him unable to stop it. What this did for me is, for the first time in my life, I felt compassion for God. Instead of "poor me, my Dad is suffering with cancer and God won't help my Dad or me" it became "poor God, his creation has been somehow taken from him, and he's forced to see it suffer". So the second conclusion is: God is a victim. In fact The victim.
The third conclusion is a bit more convoluted. So put on your thinking cap. To illustrate this point let me create a scenario similar to that of the book of Job, wherein the veil of invisibility into heaven is removed and we can see and hear the events happening in heaven. The scene is this: Satan has just gotten Adam and Eve to sin and he's back up in heaven polishing stars, or whatever it is they do up there. And along comes God and he says to Satan " I saw what you just did with Adam and Eve."
Satan's reply "So?".
God: "Well, because of what you got them to do, now they have to die".
Satan: "So?".
God: "That means you have to die too".
Satan: "No I don't".
God: "How is that?".
Satan: "You can't kill me. Unless you can prove that you wouldn't do the same thing in similar circumstances. With the right pressure you'll bend or break the rules too. No one is any better than me, with the right circumstances and motivation anyone will bend or break the rules". (That Satan feels that no one has perfect integrity, and that God's integrity is on trial can be established with at least two accounts in the bible. The first is in Job chapter 2:3 wherein God in talking to Satan says ' you try to incite me without cause to do evil to my servant Job', thus showing that Satan thought he could provoke God to do wrong. The second account is in Matthew 4:1-11 where Satan directly tries to challenge and compromise Jesus' integrity. Again, who was Jesus picturing?)
God: "That's not true, my laws are perfect and I'll never break them."
Satan: "Really? Well, try this one on, big guy.
You told Adam and Eve if they touched or ate that fruit they would die and you'd reject them. Yes?".
God: "Yes".
Satan: "...and you always keep your word, in fact, that's one of your laws. Yes?".
God: " Yes to both".
Satan: " But you also had already told them that they could have children. And you always keep your word. So let's see... hmmm.... You've rejected them, but they still can have children, so obviously the children won't be yours, I guess that makes them mine".
At that point God knew what Satan would do to human children, brutalizing, rape, torture, disease...
Satan: "...by the way, you had a little rule with Adam and Eve; if they so much as ate or touched that fruit once, you'd kill them. I'm holding you to your own rule; if you so much as bend or break one rule one time to help them, you lose. and then you can't kill me. Your big lesson with Adam and Eve was respect for property rights, (see the monograph on this website 'everything you need to know about life') and you no longer own the human race, I do." (remember, even Jesus acknowledged that Satan was the ruler of this world, {John 14:30})
So, what I realized is that God is on trial. Just because you're on trial that doesn't mean you're guilty, but you do have to show up in court. (The concept of God being on trial is not foreign to the Bible; Asaph in Psalm 74:22 says to God 'arise o God, do conduct your own case at law'. And again in Micah 6:1-3 God offers to put himself on trial with Israel)
It is an interesting fact of life that you can tell a great deal about a person by watching them work, you can see if they are organized, neat, smart, clean, etc. etc. Applying that same principle to observing God's work you will come up with an interesting conclusion about the nature of God; the nature of every single thing God has made, without exception, can be described with one word, and that word is "Law".
If everything he has made reflects and conforms to law, then he himself must be a law-loving, law-abiding person.
This conversation between God and Satan continued...
Satan to God: "Are you perfect?".
God: " Yes".
Satan: "Did you make me perfect?".
God: "Yes".
Satan: " Then how did I turn out so bad? If there is a flaw in me I must have gotten it from you".
With this compelling logic Satan clinched the deal, at this point God and everyone else knew that God would have to be so severely tested, that at the end of the trial he could with solid proof say "There is no defect in me at all".(Deut 32:5) Just a side comment here, you have to give the Devil his due. It is unarguable that Round One went to the Devil. Neither God nor any of his angels could come up with a counter-argument that could stop this horrible process, and it is unarguable that Satan derailed God's original plan.
Here's something to ponder. Every Christian knows that when Christ was on earth, he pictured God. Whether you believe he was God incarnate, a God-man being, or a perfect man, we all know he pictured God. He himself said "if you've seen me you've seen the Father". So why is it then, if we know that Jesus pictured God his whole life on earth, we forget that he especially pictured God on his last day of life on earth? When he was on trial, (I count at least five trials, starting the night before he died), and said not one word in self-defense, when he died of a broken heart, the person who most loved God; tried, convicted, and executed as a blasphemer. Who was he picturing? God is on trial, and yet how much does he say in his own defense? God would die of a broken heart if he could die, because of the reproach he has had to endure. Here is the kindest, most tender hearted person who has ever lived accused even by his best servants of permitting wickedness. And when Jesus died his horrible death, is there any doubt in your mind that he was a victim? Again, who was he picturing? (Please, you really must read Psalm 69:20) And so the super-conclusion is: God does not permit wickedness, God has wickedness forced on him against his will.
In fact in the Bible book of James, James says "with evil God cannot be tried, nor with evil does he try anyone". God just flat does not have evil in him, he never touches the stuff. To even say he "permits" wickedness is an inaccurate statement at best, and a false accusation at worst. I like Elihu's denouement towards the end of the book of Job, "Know this for a fact; God will never do wrong".
What is called God's permission of wickedness might be illustrated in this manner; A man marries a woman who already has a child, but before he can adopt the child, the mother dies. At the same time the government under which the man and child live determine that the child needs a surgery that the father/husband feels is unnecessary. At this point the father has two choices, one; kidnap the child and probably get caught and lose the child forever, two; let the government do the surgery, adopt the child, and then repair the damage. If God were to intervene prematurely (illegally) he would ,in fact, prove Satan's point and all would be lost. If he waits until he has the legal right, Ezk 21:27 (Please see the monograph on this website ' how the ransom works') he will regain control and do his repair ("look I'm making all things new" Revelation 21:5).
Conclusions:
1. God is limited (in a good way)
2. God is a victim
3. God is on trial
4. God does not permit wickedness, but it is forced on him against his will. (SuperConclusion)
Well, it's probably not what you're used to hearing, but as Elihu said to Job (Job 34:3) "...the ear itself makes a test of words, just as the palate tastes when eating".
Also, please consider this: For a law to be a law it can have no exceptions, in fact, that is what makes it a law. Similarly, for a complete explanation to be truly complete it must cover all possible aspects, or it is in fact not a complete explanation.  To say that God permits wickedness so as to allow persons to choose to serve him might satisfy some. But frankly, many have chosen to serve God and still suffer and experience wickedness. And even Asaph in the 73rd Psalm confirmed that the wicked do not serve God and yet sometimes prosper greatly. And when a two-week old infant suffers horribly and dies of cancer, please, tell me how that child benefits from suffering. In fact, wickedness is not here for anyone's benefit. It is a horrible thing that God is forced to deal with, and he will deal with it well. But it is not something he chose.
Dear king David made a very peculiar statement once. He had just done that awful episode in his life with Bathsheba, and he wrote Psalm 51. And in that Psalm he makes this peculiar statement to God "against you, you alone I have sinned". He just murdered a man, committed adultery, and yet he says to God 'against you alone I have sinned'. Why? Because David knew that 'Guess Who' had to clean up the mess, not him, but God. Everything ever done wrong will be fixed by God and is in fact against God. We're just very lucky to have a God like him.
So, gentle reader, thank you for taking the time to read this. Please take a bit of time to ruminate on it.

(If I could Just trouble you with a brief afterword here..... )  
We are always told that God is;
Omnipotent (all powerful)

Omniscient (all knowing)
and,
Omnipresent (in all places, everywhere).
These statements are intended to be the highest superlatives that could possibly describe our Creator. And they are well-intended, but on closer examination, God is not unlimited in his power. In fact, Satan is the unlimited one, he will use his power for good or bad whenever and however he chooses. God on the other hand will only use his power for good, so he is not All powerful, but he does have Unmeasurable power, but he, because of his pure and clean nature has no power for wrong. 
God also is not all knowing, if that were true then all things would be predestined, but he gave us his greatest gift when he gave us the ability to choose (free-will). Some would say  'God chooses not to know', well, that is true, if I choose not to know how to speak Japanese, do I know how to speak Japanese? No. If God chooses not to know everything about the future then he is not all knowing. Some would say by choice, I would say by design, and really it's the same thing. 
And lastly God is not Omnipresent, because then he would be in the hand of the murderer, when murder is committed, and in the virus that causes horrible disease.
So we are told that God is:
Omnipotent, but he's not, he's better than that, he only uses his power for Good.
We are told that God is:
Omniscient, but he's not, he's better than that, he lets us choose. (Free-Will)
We are told that God is:
Omnipresent, but he's not, he's better than that, he is perfectly clean and never touches bad (see the monograph on this website "Uncommon Definitions of Common Words": at the end of the definition for the word Sin, the part about the word 'holy').
It turns out that God is not as we have been told,   he turns out to be much better than we could have ever imagined.

Elihu said at Job 36:2, 'Have patience with me a little while, and I shall declare to you that there are yet words to say for God'.
                                                    Home




Consider too, this deep insight that David made about God's character.
(And this is paraphrased to bring out the thought.)
David, speaking of God, said:
'I have come to see that You are the kind of person that values keeping your word so much, that you put the doing of right, and the keeping of your word, as more important than how people may view you as a Person. No matter how much it may effect your reputation or hurt you.'
(paraphrased from psalm 138:2)

 "For thou hast magnified thy word above all thy name." (ASV)
 "For You have magnified Your word above all Your name." (NKJV)
 "You have exalted your word above all your name" (ESV, footnote reading)

So, He values his word above his name. Kind of a different thought, yes ?
Actually, what an amazing insight into God's nature and personality. It almost takes your breath away to realize what kind of person God actually is.
Methinks David knew God very  well.



~o~o~o~o
~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~


Factor this into your cogitations as well:

In the Bible book of Job everyone just assumes that God is causing all of Job's problems, it's not even questioned by ANYONE, EVER.
But here's the amazing part; When God finally speaks on His own behalf.... HE DOESN'T BLAME ANYONE.  All he basically says to Job is, "You shoulda known me better".... THAT'S IT !
Anyone else would have said, "It's not my fault, Satan did it !" But there's no record that the role of Satan was EVER revealed to Job. (possibly later, but not necessarily)

What kind of person can take that kind of abuse and not blame the guilty ?.....
(hmmm...... kinda reminds me of somebody on trial with Pontius Pilate..... hmmm....)

 I'm tellin' yah, this is an amazing God.... This is a very Noble Person.....
 really think about this..... in personal terms, not in religious terms.......it's just unbelievable.....


~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~o~



If you're still having problems with the concept of God being on trial, (yep, it's a lil' different) let me share a little Biblical Gem with you:
Paul at Romans 3:4 correctly translates Psalms 51:4 which  really says according to Paul, 'that you will win your court-case when you are judged' ! (the only correct english translation  I'm aware of, of Ps. 51:4, is the Douay where it is numbered as 50:6). Oddly though, many translations of Paul's translation of Ps 51:4 at Rom 3:4 are correct. God being judged and on trial is not foreign to the Bible, or to the Bible writers.
David clearly knew it, Asaph clearly knew it, Paul
clearly knew it ...